আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা সংবিধানবিরোধী: নূরুল কবীর
সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আদালত বাধা দিলে বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতন্ত্রপন্থি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে না দেওয়াকে সংবিধানবিরোধী ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
তিনি বলেন, “প্রকাশ্য আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। রাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেটা সমুন্নত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে। সেই বিভাগ নিজে যদি ওই অধিকার লঙ্ঘন করে এটা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাজনক ঘটনা।”
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করেন। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে হুঁশিয়ারী দেন।
নূরুল কবীর বলেন, “একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে থাকলেও আদালতের কার্যক্রম গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে।”
তার অভিযোগ, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানোর অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে।
অতীতে বিভিন্ন সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করলে সংবাদমাধ্যম বিচার বিভাগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে নূরুল কবীর বলেন, “সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আদালত বাধা দিলে বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতন্ত্রপন্থি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েও সাক্ষাৎ না পাওয়ার তথ্য দিয়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, “প্রকাশ্য আদালতে বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে নিজেদের অভিযুক্ত করবেন না, এটাই সম্পাদক পরিষদের প্রত্যাশা। "
কর্মসূচিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, “মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে প্রতিকার পেতে আদালতের ওপর আস্থা রাখে। আদালতই যখন অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকে না।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, “বিচারকক্ষে এমন কী হয়, যা জাতি জানতে পারবে না?”
এতে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দাবি আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচিতে রাস্তা অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এলআরএফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার কথা বলেন তিনি।
এলআরএফের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেলসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাপনী বক্তব্যে এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
