Published : 17 Feb 2026, 11:26 PM
ভাষার চেতনাকে ধারণ করা অমর একুশে বইমেলা এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সম্ভবত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে।”
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কবে মেলা শুরু হবে তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষার কথা বলেছেন প্রকাশক ও আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা।
তারা বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর ব্যাপারে 'ইতিবাচক মনোভাব' দেখিয়েছেন।
এর আগে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছিল, ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে। তবে প্রকাশকদের একাংশ চান ঈদের পরে মেলা শুরু করতে।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বাংলা একাডেমির কয়েকজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে একুশে বইমেলা ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরুর ব্যাপারে 'অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা' পেয়েছেন।
বাপুস এর দায়িত্বশীল একজন সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তারেক রহমান সোমবার ব্যক্তিগতভাবে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু করতে বলেছেন। তিনি যেহেতু তখনও শপথ নেননি। তাই তিনি অফিশিয়ালি কিছু বলেননি। শপথ নেওয়ার পর এ ব্যাপারে 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' জানাবেন।"
বইমেলার সদস্য সচিব সেলিম রেজা এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মেলার প্রস্তুতি চলমান আছে। রীতি অনুযায়ী সরকারপ্রধান বইমেলা উদ্বোধন করেন। এবারও সেটি করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। মেলার বেশিরভাগ প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে।"
বইমেলা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল কয়েকজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, "বাংলা একাডেমি থেকে বইমেলার সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে একটি 'সারসংক্ষেপ' সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি আসবেন, তাকে এটি দেওয়া হবে। পরে সরকার থেকে মেলার বিষয়ে 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' আনুষ্ঠানিকভাবে হলে, তা বাংলা একাডেমি তা জানিয়ে দেবে।"
বুধবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
প্রকাশকদের ঐক্য ফেরাতে সভা
চলতি বছরের অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে প্রকাশকদের মধ্যে যে 'বিভক্তি', তা ঘুচিয়ে সবাইকে মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান রেখেছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
সোমবার প্রকাশক ও মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সঙ্গে এক সভায় বসেছিলেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
পরে সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "যে সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে বইমেলায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক তাদের বইমেলায় অংশ নিতে বিশেষ অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।"
প্রকাশকদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি-র সদস্যবৃন্দের বইমেলার স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ ও স্টল বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বইমেলা ও মহান একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছেন তারা।
সমিতি বলছে, "এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকাশকবৃন্দকে বইমেলা সুন্দর ও সংগতভাবে অনুষ্ঠিত হবার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি একান্তভাবে আশা করে।"
প্রকাশকরা 'বিভক্তি' ভুলে মেলায় অংশ নেবেন কী না, জানতে চাইলে 'প্রকাশক ঐক্যের' পক্ষে কয়েকজন প্রকাশক বলেছেন, এখন আর অংশগ্রহণের 'বাস্তবতা নেই'।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ইউপিএল এর মাহরুখ মহিউদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এখন শতভাগ স্টল ভাড়া মওকুফ করা হলেও আমাদের পক্ষে আর মেলায় অংশগ্রহণের বাস্তবতা নেই। বই প্রকাশ, স্টল সাজানোসহ নানা রকম কাজের জন্য এখন যথেষ্ট সময় হাতে নেই।"
"সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। একুশের চেতনারও বিপক্ষেও নই। কিন্তু প্রকাশকরা নিশ্চিত আর্থিক লোকসান জেনেতো মেলায় অংশ নিতে পারবে না। এখনও পর্যন্ত আমাদের অবস্থান, মেলায় অংশ নিচ্ছি না।"
আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুব রাহমান বলেন, "নতুন সরকারকে জানাচ্ছি, তারা দায়িত্ব নিয়ে যদি মেলা শুরু করতে চায়, করতে পারে। আমাদের অংশ নেওয়ার বাস্তবতা নেই। বরং আমরা তাদের কাছে দাবি জানাই মেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক।"