Published : 15 Oct 2025, 03:42 PM
এগারো কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিমের জামিন নাকচ করেছে আদালত।
ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ বুধবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতে এনায়েত করিমের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আল এমরান। দুদকের পক্ষে দেলোয়ার জাহান রুমি জামিনের বিরোধিতা করেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে রমনা মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর রমনা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধ আইনে মামলায় হয়।
এরই মধ্যে এনায়েত করিম চৌধুরীকে দুদকের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। বেনজীর, তার স্ত্রী জিশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরকে আসামি করা হয় মামলায়।
তাদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
সেখানে বলা হয়, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উত্তোলনের পর কোথাও তাদের বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘদিনের এফডিআর হিসাব মেয়াদ পূরণের আগেই উত্তোলন করেন।
“এফডিআরের অর্থের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে এ অর্থ অর্জন করেছেন।”
দুদক বলছে, “আসামিরা অর্থ উত্তোলনের পর বিদেশে চলে যান। ওই অর্থের প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছেন।”
অর্থপাচারের এ মামলা করার আগে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক।