১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সদ্য সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীর জামিন আবেদন, শুনানি রোববার

রোববার গভীর রাতে সাফিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সদ্য সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীর জামিন আবেদন, শুনানি রোববার
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 02:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় কারাবন্দি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজন জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন। 

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে বৃহস্পতিবার তাদের পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী জাকির হোসেন। 

আদালত শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার।

জামিন আবেদন করা অপর দুজন হলেন—গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম।

এদিকে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বিচারের দাবিতে এদিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সেইভ আওয়ার উইমেন-বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে রোববার গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে সাফিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা রোববার মামলা দায়ের করেন।

সেখানে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।

মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।

এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।

পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।