১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কেরাণীগঞ্জের জাবেদ হত্যা: দুই ভাইসহ চারজনের যাবজ্জীবন

তারা সবাই পলাতক রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Apr 2026, 04:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

দুই যুগ আগে সিনেমা দেখানোর কথা বলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে জাবেদ হত্যার দায়ে দুই সহোদর ভাইসহ চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

দণ্ডিতরা হলেন, দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুল্লাহ এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। তারা সবাই কেরাণীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা।

দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামিরা পলাতক রয়েছে জানিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মানিক বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নুর হোসেন বাবু নামের এক ব্যক্তির পান দোকানে কাজ করতেন জাবেদ। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এসময় সিনেমা দেখানোর কথা বলে তাকে দ্বীন ইসলামের রিকশায় করে কেরাণীগঞ্জের সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যায় দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ। রাত ১২টার সময়ও বাসায় না ফেরায় নুর হোসেন মাইকিং করেও জাবেদের হদিস পাননি।

পরদিন সকাল ১০টার দিকে লোকজন গোসলে নেমে নদীতে জাবেদের লাশ পায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরাণীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। নুর হোসেনের কথায় ও আচরণে সন্দেহ হয় জাবেদের মা আমিনা বেগমের। 

তিনি জাবেদ হত্যার অভিযোগে নুরসহ দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তাদের মধ্যে দ্বীন ইসলাম বাদে বাকি চারজন নিহতের আত্মীয়। জমি-জমা নিয়ে জাবেদের বাবার সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল। এরই জেরে তারা জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলে দেয় বলে এজাহারে বলা হয়।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে কেরাণীগঞ্জ থানার এসআই মহসিনুল কাদির ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০৬ সালের ৮ মে নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। 

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হলো।