১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত

“এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন,” বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Oct 2025, 11:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। এটি সংস্থার সদস্য হিসেবে ৫৩ বছরে বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

মঙ্গলবার প্যারিসে ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের ২২২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রার্থী রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা জাপানের প্রার্থীকে ৩০–২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হন বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে চারটি দেশ—বাংলাদেশ, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। পরে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়।

রাষ্ট্রদূত তালহা বর্তমানে ইউনেস্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি এবং এর সঙ্গে ফ্রান্স, মোনাকো ও কোত দিভোয়ারের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে আছেন। তিনি ইউনেস্কোর আসন্ন ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনে (এই মাসের শেষ দিকে উজবেকিস্তানের সামারকান্দে অনুষ্ঠিত হবে) রোমানিয়ার রাষ্ট্রদূত সিমোনা মিরেলা মিকুলেস্কুর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে আমাদের উপদেষ্টা এবং স্থায়ী মিশনের নেতৃত্বের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এটি বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।”

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, “ইউনেস্কোর সর্বোচ্চ পদে বাংলাদেশের এই নির্বাচন শিল্প, সংস্কৃতি এবং শিক্ষায় বৈশ্বিক মনোযোগ আনবে। এটি এক বিরল সম্মান।”

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “সাম্প্রতিক ইউনেস্কোর অধিবেশনগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। এই নতুন পদ আমাদের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম দেবে।”

রাষ্ট্রদূত তালহা ২০২১ সালে ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, “এটি দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।” 

পাশাপাশি তিনি অঙ্গীকার করেন যে বিশ্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি ইউনেস্কোর ম্যান্ডেট রক্ষায় অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন।