Published : 26 Aug 2025, 11:13 PM
সরকারের ‘একপেশে’ নীতির কারণে ওষুধ শিল্প ‘সংকটে’— বিএনপির মহাসচিবের এমন বক্তব্যকে তার ‘ব্যক্তিগত’ মতামত বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।
তার বিশ্বাস, একটি ‘দায়িত্বশীল’ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এ ধরনের বক্তব্য দেবে না।
গত ১৩ অগাস্ট এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের ‘অস্বচ্ছ ও এক পেশে নীতিকৌশল ও নির্দেশনা’ দেশের ওষুধ শিল্পে সংকট সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুলের বিবৃতির প্রসঙ্গও আসে।
তখন সায়েদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের সামনে যদি প্রশ্ন রাখা হয়, ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কোন পক্ষে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরে শুধু দেশের না, পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দল বলবে, তারা জনগণের পক্ষে।
“অতএব এটাকে আমি একটা ব্যক্তিগত মতামত বলে মনে করি। বিবৃতিটা পড়েছি, টেকনিক্যাল অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। মনে হয়, যারা এটার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাদের দ্বারা খসড়াটা লেখা হয়েছে। একজন সাধারণ মানুষ, অথবা সাধারণ রাজনীতিক, অথবা একজন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের পক্ষে ওইরকম ‘টেকনিক্যাল’ একটা ডকুমেন্ট লেখা সম্ভব নয়।”
সায়েদুর রহমান বলেন, ওষুধ, মেডিকেল শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবার যেকোনো বিষয়ে সরকার জনগণের পক্ষে। তারা যতদিন এ দায়িত্বে আছেন, সরকারের প্রতিটি কাজেই এই অবস্থান প্রতিফলিত হবে। আর এটার স্থায়ীত্ব নির্ভর করবে, পরে যে সরকার আসবে তাদের ওপর।
সায়েদুর রহমান বলেন, সবচেয়ে বড় সংস্কার হবে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের সংস্কার। যখন মানুষ ভোটার হিসেবে প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন করবেন, তিনি ভোট দিবেন কি দিবেন না, সেটা নির্ভর করবে দেশের মানুষের চিকিৎসার ব্যাপারে তারা কী করবেন।
“আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময় দেশের অধিকাংশ ভোটার যদি প্রার্থীকে শুধু জিজ্ঞাসা করেন যে ‘আপনি আমার এবং আমার পরিবারের চিকিৎসাটা কীভাবে দেবেন? সেটার উত্তর দেন। আমি সেটার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেব, আমি আপনাকে ভোট দিব কি দিব না।‘ এটা হবে বাংলাদেশের সবচাইতে মনোজাগতিক রূপান্তর।”
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারকে নির্ধারণের যে নির্দেশ উচ্চ আদালত দিয়েছেন, সেটি সরকারের অবস্থানের নৈতিক বিজয় বলে মনে করেন সায়েদুর রহমান।
“উচ্চ আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে আমরা যে অবস্থান নিয়েছিলাম, তার নৈতিক বিজয় হয়েছে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণে আমাদের সরকার যে নীতিগত অবস্থান নিয়েছিল, গতকালের রায়ের মধ্যে সেটা প্রতিফলিত হয়েছে। আর বেশি বিতর্ক তৈরি না করে মানুষের জন্য ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের দিকে ফোকাস করব।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্তত ১০০টি ওষুধ আছে, যেগুলোর মূল্যের পার্থক্য ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আছে। সে জায়গাটিতে সরকার কাজ করবে।
“একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রামাণ্যদলিলের ওপর ভিত্তি করে কাজটি করব। আমরা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পের প্রতি বিরূপ না।”
দেশের হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ সংকট কাটাতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে সায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতার কারণে এখাতে জনবল তৈরিতে নজর দেওয়া হয়নি। এ কারণে চাইলেই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো সম্ভব না।
“এটি চালু করার যে বেসিক ম্যানপাওয়ার, যিনি কাজটি করবেন, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সেটি এনেস্থেসিওলজিস্ট করেন। কিন্তু থাকার কথা ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্টদের কাছে। ক্রিটিক্যাল কেয়ার আমাদের দেশে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সে কারণে দুই পক্ষই কাজটি এখন করছে। বাংলাদেশের ৫৪ বছর হয়েছে জরুরি সেবাদানের কোনো শিক্ষা নেই। আমরা আশা করছি বিএমইউর মার্চ ২০২৬ সেশনে ইমার্জেন্সি মেডিসিন এবং জেরিয়াটিক মেডিসিন- এ দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে।”
সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো.সাইদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন।