Published : 13 Sep 2026, 07:42 PM
জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছেড়ে দেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদের নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পুতুলের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে ওই পদে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “মালদ্বীপের প্রার্থী, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এটি (ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক কার্যালয়) ভালো একজনের হাতে যাবে।”
ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালিয়াতির তদন্তের মুখে গত বুধবার সংস্থার মহাপরিচালক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুতুল ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের জন্য ওই দায়িত্ব নেন।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভিযোগে মুখে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই থেকে তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদে বসেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ফাইল ছবি
এভাবে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত চেয়ে গত ২০ অগাস্ট সংস্থার মহাপরিচালক বরাবর চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর তার পদত্যাগের খবর আসে।
সেই খবর দিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সংস্থাটি পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর নতুন মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করা হতে পারে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য এ পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।
২০২৩ সালের নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে ভারতের ভোটসহ আটটি ভোট পেয়েছিলেন পুতুল। তাকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়াও চলছিল, তার তথ্য মিলল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুনের কথায়।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে পুতুলের নিয়োগকে ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, “এমন একটি উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা সেভাবে ছিল না। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাতে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতারক সরকার প্রতারকদের সামনে এগিয়ে দিয়েছে। এদেরতো আপনি জানেন, পরিবারের সবাই এখন চুরিতে ধরা খাচ্ছে। তার ব্যাপারেতো এটা বিস্ময়কর কিছু নয়।
“নিয়োগটাই ত্রুটিপূর্ণ ছিল, ওখানে গিয়ে চাপাবাজি করে কোনোভাবে বের হয়ে আসছে। সুতরাং, এগুলোতো বের হয়ে আসবেই। যখন আপনি দুর্নীতিগ্রস্ত, তখন দুর্নীতির গন্ধ বের হয়ে আসবেই। দুর্নীতির গন্ধ কখনো চেপে রাখা যায় না; এটি প্রকাশ পাবেই।”
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করা। যারা এমন দুর্নীতি ও বিতর্কের সাথে জড়িত, তাদের এসব সংস্থায় রাখা উচিত নয়, কারণ এতে সংস্থাগুলোর সম্মান নষ্ট হয়।
“এসব সংস্থায় এমন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আনা উচিত যারা সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন। অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে বিশ্ব বা এই অঞ্চলের জন্য শুভ কিছু হবে না। এ কারণে এসব নিয়োগ নিয়ে আমাদের খুবই সতর্ক থাকা দরকার।”
মালদ্বীপের প্রার্থী কে?
ডব্লিউএইচও আঞ্চলিক পরিচালক পদের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার প্রার্থী থাকার তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসা আহমেদ জামসিদ মোহাম্মদকে মালদ্বীপের প্রার্থী করার কথা জেনেছেন তিনি।
পেশায় চিকিৎসক জামসিদ এক সময় মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মালদ্বীপের স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চালান তিনি। মালদ্বীপের সেন্টার ফর কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল বিভাগের প্রধানও ছিলেন এক সময়।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ঢাকায় ডব্লিউেএইচও’র প্রধিনিধির দায়িত্ব পালন করে আসছেন জামসিদ মোহাম্মদ। স্বাস্থ্য খাতে ৩০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এর মধ্যে এক যুগের বেশি সময় ডব্লিউএইচওতে কাজ করা জামসিদ বাংলাদেশে সংস্থার উপ-প্রতিনিধি এবং উত্তর কোরিয়ায় ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারতের নাগপুরে ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসায় ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে জনস্বাস্থ্যে মাস্টার্স করেছেন জামসিদ।