Published : 16 Jul 2025, 02:58 PM
হত্যা, হত্যাচেষ্টার পর এবার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য দিয়েছেন।
২১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান দীপু মনিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ১৬ জুলাই ধার্য করেন।
এদিন শুনানিকালে দীপু মনিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
১১ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ টাকার ‘জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জন ও ২৮টি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩১ টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেনের’ অভিযোগে দীপু মনির বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন সংস্থার কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান।
ওইদিন তার স্বামী তৌফীক নাওয়াজের বিরুদ্ধেও মামলা করে দুদক। তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে’ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ২০৫ টাকার ‘জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। তৌফীকের বিরুদ্ধে করা মামলায় দীপু মনিকেও আসামি করা হয়।
ছাত্র-জনতার তুমুল গণ আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অন্যান্য মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মত দীপু মনিও প্রকাশ্যে ছিলেন না।
সরকার পতনের দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের ১৯ অগাস্ট সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গণআন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলায় আসামি দীপু মনি। তাকে রিমান্ডে নিয়েও কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।
ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০২৪ সালের আগস্টে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।
দীপু মনি, তার স্বামী তৌফীক ও বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপুর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ২০০৮ সাল থেকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
সবশেষ গত বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী চারবারের এই সংসদ সদস্য নতুন সরকারেও জায়গা পেয়েছিলেন। তবে শিক্ষা থেকে সরিয়ে তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
পুরনো খবর: