২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ক্যামব্রিয়ান কলেজ ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা: ২ যুবকের ‘স্বীকারোক্তি’

দিয়াবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মঙ্গলবার কলেজছাত্র সুদীপ্ত রায়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ক্যামব্রিয়ান কলেজ ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা: ২ যুবকের ‘স্বীকারোক্তি’
কলেজছাত্র সুদীপ্ত রায়।

বিডিনিউজ২৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Nov 2025, 09:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:06 PM

রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়কে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছেন।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেন জানান।

আব্দুল্লাহ (২২) ও জোনায়েদ দেওয়ান (২২) নামে দুই যুবককে মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাগানবাড়ি চৌরাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে’ আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই হাসমত আলী।

সুদীপ্ত রায় ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের জগন্নাথপুর শাখার একাদশের ছাত্র। ভাটারার শহীদ আব্দুল আজিজ সড়কে ক্যামব্রিয়ান কলেজের হোস্টেলে থাকতেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহ আলী থানার দিয়াবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে সুদীপ্ত হোস্টেল থেকে বের হয়ে অপহরণের শিকার হন। রাত পৌনে ৩টার দিকে তার মোবাইল ফোন থেকে ফোন করে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

“ভাটারা থানার তদন্তকারীরা এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করে। এরপর ১০ নভেম্বর রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাগানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ ও জোবায়েদকে গ্রেপ্তার করে।”

ভাটারা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ৩ নভেম্বর দিয়াবাড়ি এলাকার নির্মাণাধীন দশতলা ভবনের তিন তলার ফ্ল্যাটে দুই শিক্ষার্থী সাবলেট হিসেবে ওঠেন। দশতলা ভবনটির শুধু তিন তলায় একটি ফ্ল্যাট রেডি হয়েছে। ওই দুই শিক্ষার্থী ৮ নভেম্বর কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর ওই রুমে কেউ যায়নি। ১১ নভেম্বর ভোরে ওই কক্ষে থেকে পঁচা গন্ধ পেয়ে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজার তালা ভেঙ্গে বাথরুমে সুদীপ্তের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়।

সুদীপ্তর বাবা হিমাংশু কুমার রায় ৮ নভেম্বর ভাটারা থানায় অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন। ১১ নভেম্বর লাশ উদ্ধার করা হলে ‘অপহরণের পর চাঁদা না পেয়ে হত্যার ধারা’ সংযুক্ত করে মামলা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, মুক্তিপণ দাবি করলে সুদীপ্তের পরিবার ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। অপহরণকারীরা সেই টাকা ময়মনসিংহে গিয়ে দিতে বলে। তবে রাত হওয়ার কারণে সুদীপ্তের পরিবার টাকা নিয়ে যেতে পারেনি। টাকা না পেলে সুদীপ্তকে হত্যা করা হয়। এরপর ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিয়াবাড়ির সেই ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, সুদীপ্ত রায়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহর বাড়িও ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি সুদীপ্তর ‘পূর্ব পরিচিত’। ‘তিনিই সুদীপ্তকে ডেকে’ দিয়াবাড়ী এলাকায় তার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়েছিলেন।