Published : 03 Feb 2026, 02:51 PM
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় ‘শুটার’ মো. রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের এ তথ্য জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রহিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, “মামলার তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি শুটার জিন্নাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে সে রহিম ভিকটিম মুছাব্বিরকে গুলি করে মর্মে জানায়। তাছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায়ও ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র গুলি উদ্বার, মূল হোতা চিহ্নিতকরণ এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের সনাক্ত করণ, ঘটনায় ব্যবহৃত আর্থিক লেনদেনের উৎস শনাক্তের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।”
রাষ্ট্রপক্ষে শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রহিমের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
মুছাব্বির একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। আর মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দুই ‘শুটারের’ একজন জিন্নাত, ‘মূল সমন্বয়কারী’ মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল ‘রেকি’ করা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি।
সেসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গত ১২ জানুয়ারি জিন্নাত আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন।