২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বংশালে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র ৬ দিন পর উদ্ধার

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মাদ্রাসার একটি মোবাইল ফোন ও টাকা হারানোর অভিযোগ ওঠার পর শিশুটি ভয় পেয়ে যায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 04:22 PM

Updated : 28 Sep 2026, 04:22 PM

রাজধানীর বংশালে মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছর বয়সি ছাত্রকে ছয় দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই মাদ্রাসার একটি মোবাইল ফোন ও টাকা হারানোর অভিযোগ ওঠার পর শিশুটি ভয় পেয়ে যায়। পুলিশের ধারণা এই কারণে সে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে শিশুটির বালিশের নিচে ওই মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়।

উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর বংশালের সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদ্রাসা থেকে শিশুটি বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়।

পরদিন তার বাবা বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম মাদ্রাসার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন ও ও সেখানকার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে কাজ শুরু করেন।

এর মধ্যে শিশুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার বাবার ইমু নম্বরে অপরিচিত ব্যক্তিরা ফোন করে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর শিশুটির বাবা ১০ হাজার টাকা একটি বিকাশ নম্বরে পাঠান। পরে আরও টাকা দাবি করা হয়।

পুলিশ ওই বিকাশ নম্বরের তথ্য পর্যালোচনা করে জানতে পারে, সেটি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই নম্বরের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে এসেছে, মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে শিশুটি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরে যায়। সেখানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার এক মেকানিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তার সঙ্গে ঢাকায় ফিরে ওই মেকানিকেরগ্যারেজেই শিশুটি ছিল।

মোস্তাক সরকার বলেন, “ওই ব্যক্তির কথাবার্তায় সন্দেহ হলে শিশুটির এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।”

উদ্ধারের পর শিশুটিকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে লালবাগ বিভাগের এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় মুক্তিপণ দেওয়ার পরও তাকে উদ্ধার করা যায়নি এবং পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা প্রকাশিত সংবাদটি ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেছেন পুলিশ।

মোস্তাক সরকার বলেন, “বংশাল ও শ্রীপুর থানা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।”