Published : 18 Dec 2025, 03:34 PM
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল শিল্পখাতের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা জোরদারে ইউনেস্কো জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ উপলক্ষে হয়ে গেল সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী।
বুধবার গুলশানের জাতিসংঘ কার্যালয়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে জরুরি মুহূর্ত, সংকট ও দুর্যোগকালে সংস্কৃতি খাতের প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতা জোরদারে ইউনেস্কোর কার্যক্রমও উপস্থাপন করা হয়।
ইউনেস্কোর হেরিটেজ ইমার্জেন্সি ফান্ড (এইচইএফ) এর সহায়তায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি আলোকচিত্র ও ভিডিও গল্পের মাধ্যমে পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল শিল্পখাতসহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহ্যগুলো দেখানো হয়।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান সুসান ভাইজ বলেন, "সামাজিক সংহতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি বলেন, “একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল জনগোষ্ঠী তাদের আত্মপরিচয় ও সহনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমুহ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, জ্ঞান ও অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।”
ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফেদেরিকো জামপ্যারেল্লি বলেন, “শিল্পী ও কারুশিল্পীরা আর্থিকভাবে টিকে থাকতে না পারায় অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও হস্তশিল্প ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা বলতে কেবল ঐতিহ্য সংরক্ষণই নয়, বরং এসব ঐতিহ্য বহনকারী মানুষদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।”
ঢাকায় ইউনেস্কোর সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিন বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন ও অংশীজনদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে।
“এই কর্মপরিকল্পনাটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদার প্রতিফলন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহ্য ও সৃজনশীল শিল্পখাত সুরক্ষায় প্রস্তুতি ও সমন্বয় জোরদারের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি অভিনেত্রী ও প্রযোজক জয়া আহসান সাংস্কৃতিক পরিসর ও সৃজনশীল প্রকাশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এগুলো মানুষের জীবন, জীবিকা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সংকটের পর সামনে এগিয়ে যেতে এসব সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে কোনো সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”