Published : 09 Aug 2026, 06:32 PM
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রোববার তা নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মাহবুব শফিক ও মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
মেহেদি হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খায়রুল হকের ‘নট টু শোন অ্যারেস্ট’ মামলাটিতে তার শারীরিক অসুস্থতাকে বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে দেখিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, "আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, খায়রুল হকের পরিস্থিতি ভিন্ন এবং এই সিদ্ধান্ত অন্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, এটি শুধু তার মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অন্যদের সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো যেতে পারে।"
খায়রুল হকের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খায়রুল হক সাহেবকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া যেন গ্রেপ্তার দেখানো না হয়, সেই মর্মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে একটি আদেশ নেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে যে আবেদন করেছিল, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, মূল মামলাটির দ্রুত শুনানির জন্য হাই কোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খায়রুল হকের মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, "তার নামে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলায় জামিন হয়েছে, আর একটি মামলায় জামিন বাকি রয়েছে। ফলে নবম মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।"
জামিনে মুক্তির পর তার বিদেশ যাওয়ারর বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত মৌখিক আদেশে বলেছে যে, জামিন-পরবর্তী সময়ে তিনি কোনো মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশ যাত্রাও করতে পারবেন না।”
খায়রুল হক হাই কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত ১৩ মে রিট মামলা করেন তার ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাই কোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে এবং লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে এবং রোববার তা নিষ্পত্তি হল।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ঊনবিংশতম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এক বছর পর খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।