Published : 14 Dec 2025, 02:39 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে মারধর ও প্রতারণার অভিযোগে এবার রাজধানীর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।
তুরিন আফরোজের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, “মারধর ও প্রতারণা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তার জামিন চেয়ে শুনানি করি। তবে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।”
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “মনজুর আলম নাহিদ দীর্ঘদিন যাবৎ নাবিশা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে মাল্টিফেরিয়াস ব্যবসা করে আসছেন। তার অন্যতম ব্যবসা ভারতে তৈরি অশোক ল্যা ল্যান্ড বাস/ট্রাক আমদানি ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি, লিজ প্রদান। তুরিন আফরোজ তার কাছ থেকে নগদে ৭৮ লাখ টাকার দুইটি বাস কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১ জুলাই ৭৮ লাখ টাকায় দুইটি বাস কিস্তির মাধ্যমে ক্রয় করে। যার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে পরবর্তীতে তুরিন আফরোজ কিস্তির টাকা পরিশোধ থেকে বিরত থাকেন।
“২০২২ সালের ২৯ মার্চ মনজুর আলম নাহিদ তুরিন আফরোজের সাথে দেখা করে কিস্তি পরিশোধের অনুরোধ জানান। তবে তুরিন আফরোজ তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেন। ২ এপ্রিল মনজুর আলম নাহিদ টাকা পরিশোধে তুরিন আফরোজকে আবারও অনুরোধ করলেও তা শোনেননি তিনি। ৪ এপ্রিল তুরিন আফরোজের গাড়ি চালক আমির হোসেন ৭/৮ জনকে নিয়ে গিয়ে মনজুর আলম নাহিদকে হুমকি দিয়ে আসেন। পরদিন তুরিন আফরোজ ও আমির হোসেন সকাল সোয়া ৮ টার দিকে ২০/২৫ জনকে নিয়ে মনজুর আলম নাহিদের বসুন্ধরার বাসায় গিয়ে বাসার ৩২ লাখ টাকার জিনিসপত্র ভাংচুর করে। মনজুর আলম নাহিদকে মারধর করে।”
এ ঘটনায় ২০২২ সালে তুরিন আফরোজ ও তার গাড়িচালক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মনজুর আলম নাহিদ। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ৭ এপ্রিল রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের বাসা থেকে তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আব্দুল জব্বার নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে ১২ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ২১ এপ্রিল মিরপুরের গোল চত্বর এলাকায় গুলিতে আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর দুইদিন পর ২৩ এপ্রিল উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এছাড়া ১৮ জুন উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত হুসাইন হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেয় প্রসিকিউটর ছিলেন আইনজীবী তুরিন। জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযমের মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মামলা পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন তুরিন আফরোজ।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলা চলার মধ্যে তার সঙ্গে গোপন বৈঠকের ঘটনায় ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে তুরিনকে অপসারণ করে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন তুরিন। গতবছর অগাস্টে অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ অনেকের মত তার বিরুদ্ধেও কয়েকটি মামলা হয়।