Published : 20 Oct 2025, 10:55 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এর মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন কলেজছাত্রকে সোমবার সকালে তার মা থানায় হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রের পাশাপাশি জুবায়েদের ছাত্রী দ্বাদশ শ্রেণির তরুণীকেও আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আরেকজনের নাম জানানো হয়নি। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানোর কথা বলছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইনকে তার ছাত্রী ‘পছন্দ করতেন’ জানিয়ে পুলিশ বলছে, সেই ক্ষোভে ওই ছাত্রীর ‘প্রেমিক’ (আটক কলেজছাত্র) তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে জুবায়েদকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি বলেছে, তার সঙ্গে ওই কলেজছাত্রের ৯ বছরের ‘প্রেমের সম্পর্ক’ ছিল।
ওসি বলেন, “ওই কলেজছাত্র পুরান ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বর্ষে পড়ে। আর মেয়েটি পড়ে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে। পাশাপাশি বাড়িতে তাদের বেড়ে ওঠা ছোট থেকে। তাদের মধ্যে ছিল দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একে অপরকে পছন্দ করতেন।
“কিন্তু সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের ভাঙন হয় এবং মেয়েটি ওই কলেজছাত্রকে জানান, তিনি জুবায়েদকে পছন্দ করেন। এটা জানার পর ক্ষোভে ওই কলেজছাত্র তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জুবায়েদকে হত্যা করতে পারে বলে আমরা মনে করছি।”
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে রোববার সন্ধ্যা থেকেই ওই কলেজছাত্রের নাম এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর সোমবার সকালে ওই কলেজছাত্রের মা রেখা আহমেদ ছেলেকে নিয়ে গিয়ে বংশাল থানায় হস্তান্তর করে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।
কলেজছাত্রের খালু ইমরান শেখ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, রোববার রাতে পুলিশ তাকে (ইমরানকে) ধরে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকাল ৬টার দিকে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সকাল ৭টার দিকে রেখা আহমেদ থানায় গিয়ে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তিনজনকে আটক করেছি। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমরা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাব।”
কলেজছাত্রকে তার মা দিয়ে গেছে বলে স্বজনেরা বলছেন। তাকে কখন পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে জানতে চাইলে লালবাগ বিভাগের ডিসি বলেন, “আমরা তার মাকে উদ্বুদ্ধ করেছি। তার মাকে আমরা ক্রেডিট দিতে চাই। তবে এখানে আমাদেরও কিছু কাজ ছিল।”