Published : 06 Aug 2026, 04:19 PM
সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিপত্র জারির জন্য স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ধারা সংশোধন করে কেবল সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং সব ধরনের দুর্ঘটনায় আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি রুল আংশিক যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এ রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন খুলনার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। তাকে উদ্ধার করে কাছের সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি)। দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেছিল আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার।
এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে কাজী এরশাদুল আলম এবং সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান শুনানিতে অংশ নেন।
রায়ের পর মনজিল মোরসেদ বলেন, “স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।”
আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে এ আইনজীবী বলেন, বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসা না পেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই হাসপাতালগুলো লাইসেন্স নিয়ে থাকে, তাই তারা কারও চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে না। প্রথম রোগী আসলেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তারদের ‘মেডিকেল এথিক্স’ বা চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের অংশ।
এদিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে আদালত; আর বিবাদী সালাউদ্দিন হাসপাতাল তাদের জবাবে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব পালনের দাবি করেছে।
কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার পক্ষে মত দেয় আদালত। এ কারণে রায়ে সরাসরি ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে আদালত।