মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত
চার সপ্তাহের মধ্যে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগ।
মামলা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের ১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয়।
এই চার সপ্তাহের মধ্যে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগ।
কারামুক্তির আগে জামিন পাওয়া ব্যক্তিকে এজাহারে নাম না থাকার পরও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রেও এমন নজির দেখা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাই কোর্টে ১৫টি রিট আবেদন করা হয়। এসব রিটে প্রাথমিক শুনানির পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেয় হাই কোর্ট।
আদেশে রিট আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো এবং ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
বিভিন্ন সময় দেওয়া হাই কোর্টের এসব আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা বুধবার আপিল বিভাগে শুনানিতে ওঠে।
১৫টি আবেদনের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আগামী রোববার শুনানির জন্য রেখে বাকি ১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু, মুস্তাফিজুর রহমান ও এ কে এম ফখরুল ইসলামসহ কয়েকজন।
পরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে না থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্তপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা পান, তাহলে তিনি তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করতে পারবেন।"
তবে রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩টি আবেদন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য রয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ করে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন।"
রিটকারী সব পক্ষকে এ বিষয়ে শুনানির সুযোগ না দিয়েই আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছে বলে দাবি করেন এ আইনজীবী।
