Published : 02 Nov 2025, 07:59 PM
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার রাজধানীর পানি ভবনে ঢাকাসহ সারাদেশের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে অভিযানে অংশ নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা।
পাঁচ বছর আগে ঢাকার বায়ু দূষণ বন্ধে হাই কোর্ট যে নয় দফা নির্দেশনা দিয়েছিল, তা তিন সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট এই নির্দেশনা দিয়ে পরিবশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ বিবাদীদের প্রতিপালনের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
এর তিন দিন পর পরিবেশ উপদেষ্টার তরফে সমন্বিত কার্যক্রমের নির্দেশনা এল।
উপদেষ্টা বলেন, “ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষিত-সাভার এলাকার কোনো অবৈধ ইটভাটা চালু থাকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ভবন নির্মাণ বা মেরামত কাজ ঢেকে রেখে করতে হবে। অন্যথায়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন উদ্যানে ঝরাপাতা ও বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে।”
ময়লা-আবর্জনা পুড়িয়ে বায়ু দূষণকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশয়ারি দেন তিনি।
সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হল-
>> নগরের রাস্তার মাঝখানের বিভাজকে বৃক্ষ ও লতাগুল্ম রোপণ করা হবে।
>> সিটি করপোরেশন নিয়মিত পানি ছিটানোর মাধ্যমে রাস্তার ধুলা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
>> বায়ু দূষণ রোধে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।