Published : 13 Nov 2025, 02:42 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিট থেকে তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এদিন বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
২৮ দফার এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।”
দেশের জনগণ ‘যুক্তিসঙ্গত সময়ে’ অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে বলে ঘোষণাপত্রে বলেন অধ্যাপক ইউনূস।
তার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আরো স্পষ্ট একটি ধারণা প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে দিতে পারেন।”
পাশাপাশি সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বৈঠকে যে উপসংহারে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করতে পারেন কমিশনের সভাপতি মুহাম্মদ ইউনূস।
সার্বিকভাবে নির্বাচন সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে ধারণা দিতে পারেন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে। দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। সেই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনটি বাংলাদেশ উদযাপন করছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে।
আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ৮ অগাস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারও এক বছর পূর্ণ করতে চলেছে।
এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে নেওয়া উদ্যোগ গুছিয়ে এনেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই ভোটের সম্ভাব্য সময়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে গত সপ্তাহে আভাস দিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, সরকারের প্রতিশ্রুত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
“প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে বলেছিলেন নির্বাচন এপ্রিলের প্রথমার্ধে হবে। পরবর্তী সময়ে লন্ডনে বলা হয়েছে যদি অনেকগুলো সংস্কার হয় এবং বিচারের কাজগুলো এগিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে এটা ফেব্রুয়ারিতে হবে…সনদ বা ঘোষণাপত্র যাই হোক না কেন, যেভাবেই সনদ গ্রহণ করা হোক না কেন- নির্বাচন তার সময়মতো হয়ে যাবে।”
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারসহ সব প্রস্তুতি শেষে আগামী রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমভাগে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। তবে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও তফসিলের দাবি জানিয়ে আসছে।
প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর সরকারপ্রধানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করার পর সিইসি নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘ফুল গিয়ারে’ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।