Published : 04 Aug 2026, 02:32 PM
বনানীর প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলা সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ জানিয়েছে, আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পারভেজের বাবা জসিম উদ্দিন একজন কুয়েত প্রবাসী চাকরিজীবী। পারভেজ ছিলেন মা-বাবার একমাত্র ছেলে। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন ২৪ বছর বয়সি পারভেজ।
গতবছরের ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এসময় ইংরেজি বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে পারভেজ নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে পারভেজকে নিজেদের কর্মী দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী শাখার কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ করে ছাত্রদল।
সেদিনই বনানী থানায় মামলা করেন পারভেজের মামাতো ভাই হুমায়ন কবীর। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানা ইউনিটের যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ মিয়াজি হৃদয় এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষারসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্তের মধ্যে দুই ছাত্রীরও নাম আসে। আদালতের নির্দেশ তাদেরও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, সেখানে মোট নয়জনকে আসামি করা করা হয়েছে।
তারা হলেন- মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মো. মাহাথির হাসান, মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ, আল আমিন সানি, ফাতেমা তাহসিন ঐশী, ফারিয়া হক টিনা ও রাকিব।
আসামিদের মধ্যে পিয়াস, ঐশি ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। আর আটজনকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
তারা হলেন– সোবহান নিয়াজ তুষার, মারুফ মিয়াজি হৃদয়, রিফাত, আলী, ফাহিম, সাকিব, নাসিম ও নিবিড়।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মঈন উদ্দিন বলেন, "যে আট আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। আর চারজন জড়িত থাকলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।"
পুলিশের দেওয়া এই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় পারভেজের পরিবার। মামলার বাদী হুমায়ুন কবির বলেন, "অভিযোগপত্রের বিষয়ে আমরা অবগত না। যারা খুনি তাদের অনেককে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে, পুলিশ আসামিদের বাঁচানোর একটা চেষ্টা করছে। অভিযোগপত্রে আমরা সন্তুষ্ট না। এর বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দেব।"
আরও পড়ুন-
পারভেজ হত্যা: ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, বৈষম্যবিরোধী দুই নেতাকে