দুই মাস পর শুক্রবার মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনটি চালু হয়েছে; ফলে মিরপুর এলাকার মানুষ স্টেশনটি ব্যবহার করতে পেরে স্বস্তির কথা শুনিয়েছেন।
Published : 20 Sep 2024, 08:37 PM
প্রথমবারের মত সপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার মেট্রোরেলে চড়ার সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন বয়সি যাত্রীরা স্বস্তির কথা শুনিয়ে এই ব্যবস্থা স্থায়ী করার দাবি তুলেছেন।
আগেই জানানো হয়েছিল শুক্রবারও চলবে মেট্রোরেল। তবে পুরো দিন নয়, বেলা ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত। খবর পেয়ে মেট্রোতে চড়তে আসা যাত্রীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মত। স্টেশনে স্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
ছাত্র-জনতার প্রবল গণআন্দোলনের মধ্যে আগুন দেওয়া হয় মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনে, যেগুলো কয়েক সপ্তাহ বন্ধ ছিল। শুক্রবার চালু হয়েছে কাজীপাড়া স্টেশনটি।
বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকার কারওয়ানবাজার স্টেশনে বাসায় ফেরার জন্য মেট্রো ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন শাহনাজ জাহান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুক্রবারও মেট্রো চালু হওয়ায় খুবই ভালো হয়েছে। এখন সহজেই বাসায় ফিরতে পারছি। তবে শুক্রবারও এত ভিড় হবে, আশা করিনি। আর আমাদের মাঝে শৃঙ্খলা না মানার একটা প্রবণতা আছে। ফলে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়।
“যাত্রীদেরও শৃঙ্খলা মেনে ট্রেনে যাতায়াত করা উচিত। লাইন ধরে উঠানামা করলে সবারই তো সুবিধা হয়। এটা অনেকেই বুঝতে চান না।”
শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে ছেড়ে যায় মেট্রোরেল।
স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন। অনেকের সঙ্গে ছিল ছোট শিশু; তারা মূলত ঘোরার জন্য মেট্রোতে চড়েছেন। শিশুদের হাত ধরে রাখার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে বারবার সতর্ক করছিল কর্তৃপক্ষ।
দুই মাস পর শুক্রবার মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনটি চালু হয়েছে; ফলে মিরপুর এলাকার মানুষ স্টেশনটি ব্যবহার করতে পেরে স্বস্তির কথা শুনিয়েছেন।
এখন থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও মেট্রোরেল চলাচল করবে বলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুক্রবার মেট্রোরেল চালু করার জন্য জনমনে একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল, শুক্রবার বিকাল থেকে মেট্রোরেল চলছে। এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিনই মেট্রোরেল চলাচল করবে।”
কাজীপাড়া স্টেশন চালু করতে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু মানুষের উপকারের কথা ভেবে দ্রুত এই স্টেশনটা চালু করা হয়েছে। এখানে এখনও অনেক সরঞ্জাম লাগবে, যা আস্তে আস্তে ঠিক করা হবে। তখন খরচ বাড়তে পারে।"
কাওরানবাজার যাওয়ার জন্য শুক্রবার দুপুর ২টায় শেওরাপাড়া স্টেশনে এসে কার্ড পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেন অপু মেহেদী। এরপরই তিনি মাইকে ঘোষণা শুনতে পান ট্রেন আসবে বেলা সাড়ে ৩টায়। দ্রুত যাওয়ার জন্যই মেট্রো ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে খেয়াল করেননি ট্রেনের সময়সূচি।
অপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার আসলে খেয়াল ছিল না, যে ট্রেন সাড়ে ৩টায় আসবে। আমি কার্ড পাঞ্চ করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময়ও আমাকে কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু দেড় ঘণ্টা বসে থাকতে হবে ভেবে যখন বেরিয়ে যেতে চাই, তখন আমাকে বলা হল ২০০ টাকা দিতে হবে।
“আমি তখন বলি, আমি তো যাত্রা করছি না, তাহলে কেন ২০০ টাকা দেব? তখন তারা আমাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে আমার কার্ডের এন্ট্রি বাতিল করেন। কেউ কার্ড পাঞ্চ করার পর যাত্রা বাতিল করতে চাইলে সেই সুযোগটাও সহজ হওয়া উচিত।”
শুক্রবার মেট্রো চালু হওয়াটা ভীষণ স্বস্তির জানিয়ে অপু বলেন, “শুক্রবারও কেবল হাফ বেলা নয়, বরং সারা দিনই মেট্রো চলাচল করা উচিত। রাতে শেষ ট্রেনের সময়টাও আরেকটু পিছিয়ে রাত ১২টা করা উচিত।”