০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডীয় কবি অ্যান কারসন পাচ্ছেন সাহিত্যের নোবেল

ধ্রুপদী সাহিত্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাবলীল মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

কানাডীয় কবি অ্যান কারসন পাচ্ছেন সাহিত্যের নোবেল

অ্যান কারসন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 05:20 PM

Updated : 08 Oct 2026, 06:01 PM

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন।

বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির ঘোষণাপত্রে অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে বলা হয়, "তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্ম ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে এক সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালিন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ বা আঙ্গিক তৈরি করেছে।"

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ওপর অ্যান কারসনের রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য। গ্রিক ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক ধ্যান-ধারণার মিশেল ঘটিয়ে তিনি সাহিত্য জগতে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র্য ধারা।

তার বিশ্বনন্দিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে 'অটোবায়োগ্রাফি অব রেড' (১৯৯৮) এবং 'ইরোস দ্য বিটারসুইট' (১৯৮৬) । ঐতিহ্য আর আধুনিকতার অনন্য এক মেলবন্ধন হিসেবে তার সাহিত্যকর্ম দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত হয়ে আসছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও অর্থ তৈরির প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

তিনি নিজেই বলে থাকেন, শব্দের ব্যুৎপত্তিই তার কাজের সূচনাবিন্দু।

প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তিনি যেসব অনুবাদ করেছেন, সেগুলো একেকটি স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে। এর উদাহরণ হিসেবে স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে লেখা ‘ইফ নট, উইন্টার‘ (২০০২), সফোক্লিসের ‘ইলেকট্রা’ (২০০১), অ্যান্টিগনি (২০১৫) ও ইউরিপিদিসের ‘বাক্কাই’ (২০১৫) এর কথা বলা যায় অনায়াসেই।

১৯৮৬ সালে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ নামে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলেন কারসন। মূলত এই প্রবন্ধের ওপরেই তার সাহিত্যকর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

‘ইরোস’ বা প্রেমই যে কবিতার মূল সত্তা ও চালিকাশক্তি, সে বিষয়ে নিজের গভীর ভাবনা নিখুঁতভাবে বইটিতে তুলে ধরেছিলেন তিনি। এর পেছনে রয়েছে স্যাফোর ব্যবহৃত বিশেষণ, যেখানে ইরোস বা প্রেমকে দেখা হয়েছে মধুর ও বেদনাবিধুরের মিশ্রণ হিসেবে।

বরাবরের মতই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যার এবং বুধবার রসায়নের নোবেল ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নোবেল পুরস্কার।