০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পথ দেখিয়ে পদার্থবিদ্যার নোবেল

মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পথ দেখানোর পাশাপাশি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 04:00 PM

Updated : 06 Oct 2026, 04:35 PM

দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পথ দেখিয়েছেন যিনি, সেই বিজ্ঞানী পাচ্ছেন চলতি বছরের পদার্থবিদ্যার নোবেল।

মঙ্গলবার সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পুরস্কারের জন্য ফ্রান্সিস হালসেনের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস।

বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া হালসেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসনে অধ্যাপনা করেন।

নোবেল কমিটি বলছে, মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের পথ দেখানোর পাশাপাশি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

হালসেনের কৃতিত্ব হিসাবে কমিটি লিখেছে, “আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎসের উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলজিয়ান-আমেরিকান কণা পদার্থবিদ হালসেনের গবেষণা মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির কণার উৎস সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পদার্থবিদ্যার নোবেল পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস। এ বছর পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য এক কোটি বিশ লাখ সুইডিশ ক্রাউন, যা ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি। একাধিক বিজয়ী থাকলে এই অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

সুইডিশ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিনামাইট আবিষ্কারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পদের একটি অংশ থেকে তার বিপুল সম্পদ আসে। প্রথমবার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯০১ সালে। বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়। পরে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে অর্থনীতির পুরস্কার যুক্ত হয়।

আলফ্রেড নোবেলের উইলে পদার্থবিদ্যার জন্য বিশেষ গুরুত্ব ছিল। সময়ের সঙ্গে এই পুরস্কার পদার্থবিদ্যার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর আগে আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, পিয়ের কুরি, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও নিলস বোরের মতো বিজ্ঞানীরা এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের গবেষণা মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণার ভিত্তি বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গত বছর পদার্থবিদ্যার নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞানী জন ক্লার্ক, মিশেল দেভোরে ও জন মার্টিনিস। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নীতিগুলো বাস্তবে কাজ করে, এমনটা দেখানো পরীক্ষার জন্য তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটিং ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার ধারায় এটি দ্বিতীয় পুরস্কার। বরাবরের মতই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। বুধবার ঘোষণা করা হবে রসায়নে নোবেল।

বৃহস্পতিবার আসবে সাহিত্যের নোবেল ঘোষণা। এরপর শুক্রবার শান্তি ও আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

নোবেল পদক আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেবেন সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ। দিনটি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। পুরস্কার বিতরণের পর স্টকহোম সিটি হলে আয়োজন করা হবে নৈশভোজের।