০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবর্ধনা পেলেন শতাধিক রিকশাচিত্রশিল্পী

মঙ্গলবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে দেশের ১১১ শিল্পীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Dec 2023, 04:06 PM

Updated : 26 Dec 2023, 04:09 PM

ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এই চিত্রশিল্পীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলা একাডেমি। 

মঙ্গলবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ১১১ জন শিল্পীর হাতে সনদ, শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া হয়। 

ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্রে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আসে গত ৬ ডিসেম্বর। 

ওইদিন আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার কাসানে শহরে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ সংরক্ষণ বিষয়ক ২০০৩ কনভেনশনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিষদের সভায় এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি মেলে। 

ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত প্রস্তাবনার নেপথ্যে কাজ করেছে বাংলা একাডেমি এবং এর প্রণোদনায় ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

গত ছয় বছর ধরে চিত্রকর্মের এ ধরার নিবন্ধন ও স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও প্রথম চেষ্টায় তা ব্যর্থ হয়। তবে ২০২২ সালে ফের নথি জমা দেওয়ার সুযোগ মিললে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নথিটি নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়। 

এর আগে জামদানি বয়ন শিল্প, শীতল পাটি বয়ন শিল্প, বাউল গান ও মঙ্গল শোভাযাত্রাও ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। 

এ অর্জন দেশের প্রতিটি রিকশাচালক ও রিকশাচিত্রশিল্পীর 

বাংলা একাডেমির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

আলোচনায় অংশ নেন ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম এবং বাংলা একাডেমির ফোকলোর জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. আমিনুর রহমান সুলতান।  

সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। 

স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাংলাদেশের রিকশাচিত্রশিল্পের ইতিহাসে ইউনেস্কো-স্বীকৃতি এক অসামান্য অর্জন। এই অর্জন বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। 

প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, “জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো কতৃর্ক বাংলাদেশের রিকশাচিত্রশিল্প বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ অর্জন বাংলা ও বাঙালির, এ অর্জন এদেশের প্রতিটি রিকশাচালক এবং রিকশাচিত্রশিল্পীর, এ অর্জন বাংলাদেশের।” 

ঢাকায় রিকশাচিত্রের একটি বিশেষ স্কয়ার স্থাপন করা যেতে পারে জানিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম বলেন, “যেখানে প্রতিবছর ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রিকশাচিত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিনটি এদেশের রিকশাচিত্রশিল্পীরা উদযাপন করবেন।” 

সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ বলেন, আগামী কলকাতা বই মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে যেমন রিকশাচিত্রশিল্পের সংযোজন থাকবে তেমনি আসন্ন একুশে বইমেলায়ও রিকশাচিত্রশিল্পের বিশেষ স্থান থাকা প্রয়োজন। 

ড. আমিনুর রহমান সুলতান বলেছেন, “রিকশাচিত্রশিল্পের ইউনেস্কো-স্বীকৃতির নেপথ্যে যে শিল্পীদের অবদান মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেছে, তাদের সংবর্ধিত করাও আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, “বাংলার লোকসংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ রিকশাচিত্রশিল্প। এই শিল্প দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।” 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। 

এছাড়া  অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি থেবে প্রকাশিত RICKSHAWS AND RICKSHAW ART IN DHAKA অ্যালবাম এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান রচিত ঢাকা জেলার লোকসংস্কৃতি গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন করা হয়।

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র
রিকশাচিত্রে রঙিন চা দোকানগুলো
হানিফ পাপ্পুর ক্যানভাস বদল
রিকশাচিত্রের শিল্পীরা রইলেন আড়ালে