১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় কবিতা উৎসবের আসর বসছে ফেব্রুয়ারির প্রথম দুদিন

যুদ্ধ ও গণহত্যার প্রতিবাদ জানানো হবে এবারের জাতীয় কবিতা উৎসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jan 2024, 03:29 PM

Updated : 20 Jan 2024, 03:29 PM

'যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা’ স্লোগানে বরাবরের মত ফেব্রুয়ারির প্রথম দুদিন ঢাকায় বসছে জাতীয় কবিতা উৎসব।

আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কবিতা উৎসবের ৩৬তম আসরে কবিতাপাঠ, নিবেদিত কবিতা, সেমিনার, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করা হবে। 

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জাতীয় কবিতা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতারা জানান, বরাবরের মতো এবারও উৎসবের আঙিনা নির্ধারণ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের হাকিম চত্বর।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের কবিরা এবারের উৎসবে অংশ নেবেন। এছাড়াও অনলাইনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে যুক্ত হবেন অন্যান্য দেশের কবিরা। উৎসবে 'জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার প্রাপ্ত কবির নাম ঘোষণা করা হবে।

এবার উৎসবে যুদ্ধ ও গণহত্যার প্রতিবাদ জানানো হবে জানিয়ে তারিক সুজাত বলেন, "আজ যখন পৃথিবীর দেশে দেশে অশুভ শক্তির দাপটে নিরপরাধ মানুষ বিপন্ন। নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের লাশের স্তূপের উপর ক্ষমতার অহমিকা দেখাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তখন আমরা বাংলাদেশের কবিরা এবং আরো বেশ কয়েকটি দেশের কবি ও কবিতাপ্রেমীরা একত্রিত হয়ে এই উৎসবে যুদ্ধ ও গণহত্যাসহ সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।"

এবারও বিভিন্ন দেশ ও ভাষার কবিদের উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন ভাষার বেশ কয়েকজন বরেণ্য কবি তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের কলকাতার সুবোধ সরকার, বিথী চট্টোপাধ্যায়, বিভাস রায় চৌধুরী, ভারতের আগরতলার রাতুল দেব বর্মন, দীলিপ দাস, আকবর আহমেদ, আসামের কবি অনুভব তুলাসি, চন্দ্রিমা দত্ত, ফিলিপাইনের কবি ও বর্তমানে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লিও টিটো এল আসান জুনিয়র, নেপালের চাবিলাল কপিলা।

এছাড়াও 'যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা' এই মর্মবাণীর প্রতি সংহতি জানিয়ে কায়রো আন্তর্জাতিক বই মেলা থেকে সরাসরি অনলাইনে সংযুক্ত হবেন আরব বিশ্বের খ্যাতিমান কয়েকজন কবি।

তারা হলেন- মিশরের আহমেদ আল ছাহহে,ইব্রাহীম আল মাশরি, ড. সারা হামিদ হাওয়াস, ইরাকের ড. আলী আল সালাহ, জার্মান কবি টরিয়াস বার্গার্ট, আর্জেন্টিনার কবি জনা বার্গার্ট।

'যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা' দ্বারা কী বার্তা দিতে চান সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমরা সবসময়ই শান্তির পক্ষে। জাতীয় কবিতা পরিষদের সূচনাই হয়েছিল সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভা থেকে। সারা পৃথিবীর শিল্পীরাই শান্তির পক্ষে। তবুও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, গাজায় নিরীহ মানুষের উপর হামলাসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধ্বংসযজ্ঞ আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি।

"ছোট দেশ হিসেবে আমরা এই মর্মবাণীর মাধ্যমে এসব ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই এবং এ প্রতিবাদ পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়িয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"