Published : 16 Dec 2025, 08:50 PM
পরাধীনতার শিকল ভেঙে বাঙালির রক্তে রাঙা স্বাধীনতার ইতিহাসকে তিন খণ্ডের সংকলনে মলাটবদ্ধ করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ–অন্তহীন যুদ্ধ: গৌরব, বেদনা আর শিকড়ের ইতিহাস’ শিরোনামে এ সংকলনের প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হল মঙ্গলবার বিজয় দিবসের রাতে।
এ সংকলন মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে পৌঁছানোর যাত্রায় বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের পর্বভিত্তিক নির্বাচিত লেখাগুলো গ্রন্থিত করে একটি ভিন্ন পাঠের প্রয়াস, যা সম্পাদনা করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
সম্পাদনা পর্ষদে ছিলেন সাংবাদিক রাজীব নূর, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সালেক খোকন এবং সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম আবেদ।
সংকলনটির মোড়ক উন্মোচন করেন মুক্তিযুদ্ধের দুই বীর নারী শেখ ফাতেমা আলী ও ফিরোজা বেগম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান মিয়া, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদউল্লাহ।

ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট সরকার, ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য পরিণতির নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সাজানো এ সংকলন রক্তরেখায় হেঁটে চলা বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসকেই স্মরণ করছে, শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সেই সব সংগ্রামীদের, যারা বাঙালিকে একটি স্বাধীন দেশে বাঁচবার অধিকার দিয়ে গেছেন।
অতীতের সেই সুবর্ণরেখায় হেঁটে এ প্রজন্ম জানতে পারবে, মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য কতটা দাম দিতে হয়েছে এ ভূখণ্ডের মানুষকে।
প্রকাশিত প্রথম খণ্ডে রয়েছে মোট ১০টি অধ্যায়। প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী জানালেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডও শিগগিরই প্রকাশ হবে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানের ছোট্ট আয়োজনটি শুরু হয় ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গানটি দিয়ে। ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরুতে এই সংকলনটি নিয়ে একটি অডিও-ভিজুয়াল প্রদর্শনী হয়। এরপর দেখানো হয় মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফাতেমা আলী ও ফিরোজা বেগমকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেখ ফাতেমা আলী বলেন, “আজকে আমার মত একজন দুর্ভাগা, ১৯৭১ ‘কলঙ্কিনী’ বলে যেটাকে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আজকে আমাদের মত দুঃখিনী, কলঙ্কিনীদের নিয়া আইস্যা যে গর্বিত করছে– এখানে যারা মিডিয়ার সাংবাদিক আছেন। প্রতিষ্ঠানের যে মালিক আছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।”
“আজকে ৫৪ বছর হয় স্বাধীনতার। আমি আশা করব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যে সম্মান করল, এরকম সম্মান যদি সব জায়গায় করত!”
কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কান্না আসতেছে, এরকম সম্মান আমি কোথাও পাই নাই। আপনাদের আমি ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ। বর্তমান প্রজন্ম যারা আছেন আমাদের আর ছোট নজরে দেইখেন না। আমাদেরকে মানুষের মত বাঁচার জন্য সাহায্য করেন। আমরা যেন আর লাঞ্ছিত, অপমানিত না হই।”
উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতায় দুই মুক্তিযোদ্ধার হাতে বই তুলে দেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী, উন্মোচিত হয় ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ–অন্তহীন যুদ্ধ: গৌরব, বেদনা আর শিকড়ের ইতিহাস’-প্রথম খণ্ড।
প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “বাংলাদেশের জন্ম এক অনিবার্য ঐতিহাসিক পরিণতি। এই পরিণতিতে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। পথটি ছিল দীর্ঘ, জটিল এবং বহুস্তরীয় সংগ্রামের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই নয়, শত বছরের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ। স্বাধীনতার এই যুদ্ধকে আমরা সাধারণত ইতিহাসের একটি ‘সমাপ্ত অধ্যায়’ মনে করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে এটি যে এক অন্তহীন যুদ্ধ, তা বারবার প্রমাণিত।
“রাষ্ট্র, সমাজ, সংস্কৃতি—সবকিছুকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়নের যে অগ্নিপরীক্ষা ১৯৭১ আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অর্জনই মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে মূল্যবান উত্তরাধিকার। ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ নামে তিন খণ্ডে পরিকল্পিত এই সংকলন সেই উত্তরাধিকারকে পাঠ করার প্রয়াস।”
গত দেড় দশকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য লেখালেখি হওয়ার কথা তুলে ধরে তৌফিক ইমরোজ খালিদী লিখেছেন, “সেসব লেখার অধিকাংশই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থ পূরণের জন্য, কাউকে তুষ্ট করার জন্য, সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে কিছু টাকা উপার্জনের জন্য লিখিত। ফলস্বরূপ, মনগড়া ইতিহাস তৈরি হয়েছে।”
‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’ নামে এই সংকলন প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি থেকে সশস্ত্র যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কে বোঝার এবং বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
“১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম নেওয়ার পরই ভাষা নিয়ে বিভেদ দেশের দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। শুরু থেকেই পাকিস্তান একটি কৃত্রিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত সেই রাষ্ট্রে মানুষের স্বাভাবিক সংহতি জন্মাতে পারেনি। রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ছিল একাংশের ওপর অপরাংশের আধিপত্য বিস্তারের; যা জনগণের স্বাধীনতা, ন্যায় ও সাম্যের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।”
এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত লেখাগুলো পড়ার পর পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগবে, গবেষণার নতুন পথ তৈরি করবে এবং আলোচনার জন্ম হবে বলে মনে করেন প্রধান সম্পাদক।
তিনি বলেন, “এই সংকলন ইতিহাসের শেষ কথা নয়; এটি বাংলাদেশের জন্মের গল্পকে একত্রে পাঠ করার চেষ্টামাত্র। এই সংকলন সেই আলোচনার দরজা হয়ে থাকতে আগ্রহী।”
‘ও আমার দেশের মাটি’ গানটি দিয়ে শেষ হয় ছোট্ট এ অনুষ্ঠান।
যা আছে প্রথম খণ্ডে
প্রথম অধ্যায়টির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘ভাষার লড়াই থেকে মুক্তিযুদ্ধ’। এই অধ্যায়ে সংকলনভুক্ত করা হয়েছে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ভাঙার ইতিহাস, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন নিয়ে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের ঘূর্ণিঝড় ও নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ের অবস্থা।
দ্বিতীয় অধ্যায়টি ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ নিয়ে। মার্চের শুরুতে জাতীয় অধিবেশন স্থগিত হওয়া এবং তার পরবর্তী হরতাল, অসহযোগ আন্দোলনসহ কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে এই অংশে। পাশপাশি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, ভাষণের পূর্বাপর, তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা, এই ভাষণের বিশ্লেষণ, ইতিহাসের নিকৃষ্ট গণহত্যা পরিকল্পনা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ তৈরি হওয়ার পূর্বাপর উঠে এসেছে এ অধ্যায়ে।
‘অপারেশন সার্চলাইট: বীভৎস হত্যাজজ্ঞের শুরু’ নামে তৃতীয় অধ্যায়টিতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাঙালিদের ওপর চালানো গণহত্যার স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতি, সেই কালরাত্রিতে ঢাকায় অবস্থান করা বিদেশি সাংবাদিকদের বয়ানে কালরাত্রির নৃশংসতা উঠে এসেছে এই অধ্যায়ে।
চতুর্থ অধ্যায়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তির ডাক: স্বাধীনতার ঘোষণা ও বেতারের মুক্তকণ্ঠ’। এ অধ্যায়ে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, বেতারের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়ে বেতারে কাজ করা বাঙালিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেতারের ভূমিকা।
স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই প্রথম প্রতিরোধের গল্প উঠে এসেছে পঞ্চম অধ্যায়ে। যুদ্ধের ময়দান ঘুরে যুদ্ধ চলাকালে রচিত লেখা সংকলিত হয়েছে এই অধ্যায়ে।
ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার মুজিবনগর সরকারের শুরু ও অন্যান্য ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই সরকার গঠন হয়, কারা ছিলেন এর নেপথ্যে। মুক্তিযুদ্ধে এই সরকারের ভূমিকা কেমন তা তুলে ধরা হয়েছে।
সংকলনের সপ্তম অধ্যায়ে মুক্তিবাহিনী গঠন, তাদের সুবিন্যস্তকরণ এবং ১১টি সেক্টর গঠনের ইতিহাস উঠে এসেছে। এই অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনটি ব্রিগেড গঠনের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশল এবং নানা দুঃসাহসী লড়াইয়ের ঘটনাও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
অষ্টম অধ্যায়ে উঠে এসেছে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের নানা ঘটনা। অবরুদ্ধ ঢাকায় কীভাবে এসব গেরিলারা হানা দিয়েছিলেন, কীভাবে শায়েস্তা করেছিলেন পাকিস্তানি হানাদারদের, অংশগ্রহণকারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া সেসব শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বিবরণ পাওয়া যাবে এই অধ্যায়ে।
নবম অধ্যায়ে উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের শরণার্থীদের নানা সংকট আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের গল্প। তখন ভারতের শরণার্থী ক্যাম্পে কত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন, কেমন ছিল তাদের সে সময়ের জীবনযাত্রা। কত মানুষ মারা গেছেন, সেসবের সংখ্যাভিত্তিক এবং বর্ণনা পাওয়া যাবে এই অধ্যায়ে।
দশম এবং এই খণ্ডের শেষ অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের নানা দুঃসাহসী অভিযানের গল্প। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যে রণাঙ্গণের লড়াই, মুক্তিযুদ্ধে নৌকমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’, বাংলাদেশের প্রথম বিমানবাহিনী গঠনের পটভূমি, ‘অপারেশন কিলোফ্লাইটের’ নানা অভিযান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও তাদের বীরত্বগাথার রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে এই অধ্যায়ে।
সম্পাদনা সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেছেন নবনীতা সাহা, অপু মেহেদী, পাভেল রহমান ও মাছুম কামাল। সংকলনে কাজ করেছেন আজিজুল পারভেজ, শাহেদ কায়েস, রুমা মোদক, আহমাদ শামীম ও মারুফ বিল্লাহ তন্ময়; অঙ্গসজ্জায় মো. নুরুল মোস্তফা জিনাত ও সজল কর্মকার। ছবি কিউরেশন করেছেন সাহাদাত পারভেজ।
সংকলনের প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী আনিসুজ্জামান সোহেল। প্রচ্ছদের আলোকচিত্র অ্যান ডি হেনিংয়ের। ফরাসি এই আলোকচিত্রী ১৯৭১ সালে কুষ্টিয়া থেকে ছবিটি তুলেছিলেন।
সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ছবিগুলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত এবং ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত। ছবির কপিরাইট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নয়। পুনর্মুদ্রিত লেখা প্রকাশে লেখক অথবা স্বত্বাধিকারীদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ–অন্তহীন যুদ্ধ: গৌরব, বেদনা আর শিকড়ের ইতিহাস’-প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে দেড় হাজার টাকা।
অতিথিরা
মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফাতেমা আলী
বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তাড়াইল গ্রামে। বাবা শেখ আতিয়ার রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। এই খবর রাজাকাররা দিয়ে আসে পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে। ওরা এসে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। চোখের সামনে গুলি করে মারে তার ৪ ভাই ও এক বোনকে। তারা তখন পালিয়ে আশ্রয় নেন বড় নৌকায়।
একদিন রাজাকারদের সহযোগিতায় ওই নৌকায় হানা দেয় পাকিস্তানি সেনারা। তার বাবার সামনেই তারা তাকে নির্যাতন করে। পরে তুলে নিয়ে যায় যশোরের শার্শায়, বাগআঁচড়ায় পাকিস্তানি ক্যাম্পে। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন শেখ ফাতেমা আলী। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনে পেটের সন্তান পেটেই মারা যায়।
মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজা বেগম
বাড়ি মাদারীপুরের হযরতপুর গ্রামে। একাত্তরে তার কয়েক সপ্তাহ বয়সী ছেলেকে পাকিস্তানি সেনারা টেনে, ছিঁড়ে হত্যা করে মায়ের চোখের সামনে আছড়ে ফেলে। এরপর ফিরোজাকে তুলে নিয়ে যায় যশোরের শার্শায়, বাগআঁচড়া ক্যাম্পে।
ওখানে পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে রেখেই তার ওপর নির্যাতন চালাত ওরা। হেমায়েত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা ওই ক্যাম্পে আক্রমণ করে ফিরোজাসহ সকল নারীকে উদ্ধার করে। পাগলপ্রায় ফিরোজাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করায় আরেক বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফাতেমা আলী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সার্কেলেরই ইনকাম ট্যাক্স অফিসার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করেন, চলে যান কলকাতায়।
মুজিবনগর সরকারের ইয়ুথ অ্যান্ড রিসেপশন ক্যাম্পের ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। অধ্যাপক ইউসুফ আলী ছিলেন এ বোর্ডের প্রধান।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কনস্টেবল মো. শাহজাহান মিয়া
একাত্তরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ওয়ারল্যাস অপারেটর ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের প্রথম ওয়ারল্যাস বার্তায় পাঠান তিনি। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ করেন এগার নম্বর সেক্টরের চান্দুয়া, বিজয়পুর, ধর্মপাশা প্রভৃতি এলাকায়।
৭ ডিসেম্বর ১৯৭১। বিজয়পুর অপারেশনের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পুঁতে রাখা মাইনের স্প্লিন্টারে বিদ্ধ হয় তার বাঁ পায়ের পাতা।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদউল্লাহ
সামের লোহারবন ট্রেনিং ক্যাম্পে আটাশ দিনের বেসিক ট্রেনিং এবং বাইশ দিনের ‘জুনিয়ার লিডারশিপ’ ট্রেনিং নেন। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন চার নম্বর সেক্টরের জালালপুর সাব-সেক্টরের অধীনে সিলেটের কানাইঘাট ও আটগ্রামের বিভিন্ন জায়গায়।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেটের আটগ্রামে এক অপারেশন পাকিস্তানিদের শেলের স্লিন্টার বিদ্ধ হয় তার ডান হাঁটুর উপরে এবং বাঁ পায়ের বিভিন্ন জায়গায়।