Published : 19 Oct 2025, 01:14 AM
বাংলার প্রাচ্য-চিত্রকলার ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও নন্দনতত্ত্বের মেলবন্ধনে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে অধ্যাপক মলয় বালার একক চিত্রপ্রদর্শনী।
শনিবার শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীর শিরোনাম 'পবিত্র সৌন্দর্যের সন্ধানে: মলয় বালার ভক্তিমূলক শিল্প'। ১১ দিনের এ প্রদর্শনীতে মোট ৮০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে, যা শকুন্তলা, ধর্ম, নারী ও প্রকৃতি–এই চারটি পর্ব বা বিষয়ে বিন্যস্ত।
'শকুন্তলা' পর্বে রয়েছে পৌরাণিক চরিত্র ও শকুন্তলার জীবনোপাখ্যান। এই ধারার চিত্রে বট গাছের শিকড়মধ্যস্থ অবয়ব-প্রধান কাজ তার স্বকীয় পরিচয় বহন করে।
'ধর্ম' পর্বে রয়েছে ধর্মগুরু বুদ্ধ, শ্রীকৃষ্ণ, দেবী দুর্গা ও অন্যান্য। 'নারী' পর্বের কাজ দৃশ্যত ফিগারেটিভ। ‘প্রকৃতি’ পর্বের কাজে ওঠে এসেছে পশু-পাখি ও ল্যান্ডস্কেপ।

এই প্রদর্শনী মূলত প্রাচ্যধারার কাজ দিয়েই সাজানো হয়েছে। যেখানে জলরং ধৌত-পদ্ধতির কাজই বেশি। গোয়াশ, টেম্পারা, অ্যাক্রেলিক মাধ্যমের কাজও রয়েছে। শিল্পীর অ্যাক্রেলিক মাধ্যমের কাজগুলো দেখতে অনেকটা জলরং ওয়াশ পদ্ধতির কাজের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মলয় বালা বলেন, "আমি আঁকি ঈশ্বরের সান্নিধ্য খুঁজে পেতে, ধ্যান করতে এবং তার আরও কাছাকাছি যেতে। আমার হৃদয় অনুভব করে ঐশ্বরিক সত্তাকে–পবিত্র পুরাণে, আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুশ্রেষ্ঠদের মধ্যে, প্রকৃতির পবিত্র সৌন্দর্যে এবং নারীর মর্যাদাময় অনুগ্রহে–যা আমি আমার চিত্রে প্রকাশ করার চেষ্টা করি।"

এটি শিল্পীর তৃতীয় একক প্রদর্শনী। এর আগে ২০০৭ সালে 'প্রাচ্যগৃহ: আমার শিল্পজগৎ' এবং ২০১৫ সালে ‘শকুন্তলার পুনর্মিলনী’ নামে দুটি প্রদর্শনী হয়।
‘পবিত্র সৌন্দর্যের সন্ধানে: মলয় বালার ভক্তিমূলক শিল্প’ প্রদর্শনী চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। রোববার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ প্রদর্শনীর কিউরেটর মিখাইল ইদ্রিস। প্রদর্শনী উৎসর্গ করা হয়েছে ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে।
মিখাইল ইদ্রিস বলেন, "শিল্পী মলয় বালার শিল্পসাধনা প্রকাশ করে এক আধ্যাত্মিক প্রেরণাকে, যা পৃথিবী, প্রকৃতি ও জীবজগৎকে পবিত্র আলোর মধ্যে উদ্ভাসিত করতে চায়। তার শিল্প রহস্যময়ভাবে আত্মার ঐশ্বরিক মিলনের আকাঙ্ক্ষাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে।"

মলয় বালা ১৯৭৮ সালে গোপালগঞ্জ জেলার রামশীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ২০১৪ সালে তিনি ‘বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রাচ্য-চিত্রকলার ধারা’ শীর্ষক গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি পান।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রদর্শনীর এ আয়োজনের সঙ্গে আরও থাকছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা সংগীত পরিবেশনা, লোক ও প্রাচ্য শিল্পকর্ম-বিষয়ক কর্মশালা এবং শিল্পীর সঙ্গে কথোপকথন।
প্রদর্শনী চলাকালে ধারাবাহিকভাবে যন্ত্রশিল্পীদের (বাঁশের বাঁশি, দোতারা, একতারা, সারিন্দা, খমক, বেহালা, সেতার, সারেঙ্গী) একক পরিবেশনা থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন, চিত্রশিল্পী সমর মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক শরিফা আক্তার।