১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কাছে দূরের কক্ষপথে ভ্রমণ শেষে কেতকী কুশারী ডাইসন

প্রবন্ধে তাঁর জ্ঞানভাণ্ডারের এক অলংকৃত বিন্যাস ও বয়ান আমাদেরকে মুগ্ধ করেছিল শুরু থেকেই। জ্ঞান আমরা কমবেশি সবাই আহরণ করি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জ্ঞানকে নিকশিত করা। তিনি সেই কাজটি অসামান্য প্রতিভাবলে নিষ্পন্ন করেছেন। তাঁর সমসাময়িক কিংবা পরেও যারা লেখালেখি করেছেন, কে আর সমান স্বাচ্ছন্দ্যে এত সব বিষয়ে বিশ্ববিহারী হতে পেরেছেন! তাঁর মধ্যে বহুমুখী পাঠের বিস্তার যেমন ছিল, তেমনি, যখনই কোনো বিষয়ে লিখেছেন তা হয়ে উঠেছে সুশৃঙ্খল এক নির্মাণ।

রাজু আলাউদ্দিন রাজু আলাউদ্দিন

Published : 14 Sep 2026, 07:38 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

১২ সেপ্টেম্বর যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদটা পেলাম তখন দেশের বাইরে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে কোনো কিছু লিখে উঠতে পারিনি, কারণ লিখতে গেলে তাঁর বইগুলো হাতের সামনে না থাকলে অনেক কিছুই স্পষ্ট ও নিশ্চয়তাসহ বলার সুযোগ থাকে না। এখন এই মুহূর্তে আমার সংগ্রহে থাকা তাঁর কিছু বই নিয়ে তাকিয়ে দেখছি কি অসাধারণ সব কাজ করেছেন তিনি! আর কত বিচিত্র দিকেই না ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ্য যাতায়াত; তা কেবল বিষয়ের দিক থেকেই নয়, এমনকি ভাষিক রাজযোটকের ফলেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রণম্য প্রতিমা। নারী-পুরুষ লিঙ্গভেদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাটা এক সংকীর্ণতা বটে, কিন্তু জ্ঞান ও শিল্পসাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে—দেশে কিংবা বিদেশে-- পুরুষতান্ত্রিক নির্মিত ছাঁচগুলো পেরিয়ে নারীর স্বাধীন ও সার্বভৌম বিকাশ যে এক অন্তরায় তা আমাদের কাছে আজও বাস্তব সত্য হিসেবে বিরাজ করছে। লিঙ্গনিরপেক্ষভাবেই তিনি ছিলেন এমন এক লেখক যিনি একই সঙ্গে বহুধা এবং বহুপল্লবী এক সৃজনশীল সত্তা। আর নারী হিসেবে পুরুষের তৈরি প্রতিরোধগুলো ভেঙে ভেঙে এই উচ্চতায় পৌঁছানো ছিল আরও বেশি দুরূহ। কাছের দূরের কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে তিনি আমাদের জন্য তৈরি করেছেন এমন সব সংকেতলিপি যা আমাদের চিন্তার জগতকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ৮৬ বছরের জীবনব্যাপী তিনি ছিলেন—তাঁরই বইয়ের শিরোনাম অনুযায়ী—এক চলন্ত নির্মাণ। জানতেন সংস্কৃত, ইংরেজি আর স্প্যানিশ। বাংলা তাঁর মাতৃভাষা, অন্যদিকে, ইংরেজিও জানতেন মাতৃভাষার মতোই সমান সক্ষমতাসহ। বাংলা আর ইংরেজি তাঁর লেখার মাধ্যম হলেও, বিভিন্ন ভাষার জ্ঞানভাণ্ডার থেকে তিনি অবিরাম আহরণ করে গেছেন তাঁর আগ্রহের উপাদানগুলো, আর তার পুনর্বিন্যাস করেছেন তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও মননের রসায়নে জারিত করে। লিঙ্গভিত্তিক পরিচয়টি বিবেচনা করলে, নারীর প্রতি অবহেলা, বঞ্চনা ও অবমূল্যায়নপূর্ণ একটি সমাজ ও সময়ে তাঁর জ্ঞানচর্চা ছিল পুরুষের তুলনায় অতিরিক্ত এক লড়াই। পুরুষের জন্য যা প্রস্তুত, নারীকে লড়াইয়ের মাধ্যমে তা প্রস্তুত ও নির্মাণ করে নিতে হয়। সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রেণিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন নি বলে তাঁর লড়াইটা কম ছিল বটে, কিন্তু জ্ঞানের জগতের পুরুষতান্ত্রিকতার মুখোমুখি নিশ্চয়ই তাঁকে হতে হয়েছে; নারীবাদ নিয়ে লেখাগুলো তাঁর সেই মোকাবেলারই এক দৃষ্টান্ত। যদিও তাঁর প্রধান কক্ষপথ অবশ্যই সাহিত্য যেখানে একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি দুই রেখা এসে মিলিত হয়েছে পরমাত্মীয়ের বন্ধনে। অন্যভাষার সাহিত্য যেমন তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন, তেমনি মাতৃভাষার সাহিত্যও তর্জমা করেছেন ইংরেজি ভাষায়, যেমন রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর কবিতা। লিখেছেন বিদেশি সাহিত্য নিয়ে, কিন্তু নিজ ভাষার ঋষিদেরকেও সমান আগ্রহে তাঁর ‘ভাবনার ভাস্কর্যে’ খোদাই করে নিয়েছেন। পূর্বসূরী ও অনুজ বহু লেখক সম্পর্কে লিখেছেন কোনো না কোনো বই ও ভাবনার সূত্রে। এমনকি, অতি তরুণ লেখকও প্রবেশ করেছে তাঁর আগ্রহের বলয়ে। গুরুভার প্রবন্ধ থেকে শুরু করে তর্কবিতর্ক, স্মৃতিচারণ, মূল্যায়ন, গবেষণা, পুস্তক-আলোচনা, কবিতা, কথাসাহিত্য, নাটক, অনুবাদসহ সাহিত্যের বহু মাধ্যমে আজকাল এই দূর-বিস্তারি ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত করমেয়। কেতকী কুশারী ছিলেন প্রায় অলরাউন্ডার। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বিচিত্র পথে গমনের কারণে তাঁর লেখা কিংবা ভাবনা কখনোই লঘুতার তারল্যদোষে দুষ্ট হয়ে পড়েনি। কেতকী কুশারী ছিলেন আমাদের জন্য এমন এক দৃষ্টান্ত যিনি জ্ঞানের বহুমুখিতা, সৃজনীসংরাগ, প্রাণাবেগ ও প্রগাঢ়তায় অনন্যসাধারণ। বাঙালির জ্ঞানচর্চার মানচিত্রে এমন এক তীর্থভূমি তিনি যা আমাদের জন্য অবশ্যগম্য এক স্থান। 

নব্বুই দশকে তাঁর ভাবনার ভাস্কর্য যখন প্রকাশিত হলো, এর শিরোনাম দেখেই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এই বইটি পড়ার আগেই অবশ্য তিনি আমাদের কাছে তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধের জন্য পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব। আমাদের কাছে তাঁর খ্যাতি আরেকটি কারণে ঘটেছিল, সেটা ছিল জঙ্ঘা শব্দটি নিয়ে হুমায়ুন আজাদের সাথে তাঁর মতভেদের সূত্রে। হুমায়ুন আজাদ সম্ভবত জঙ্ঘা শব্দটিকে উরুর সমার্থক ভেবেছিলেন। কেতকী কুশারী ডাইসন নাকি তখন  হুমায়ুন আজাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনার সাথে দেখা হলে জঙ্ঘা কাকে বলে তা দেখিয়ে দেবো।’ সন্দেহ নেই যে মুখরোচক ঘটনা হিসেবে এর বিস্তার ঘটেছিল আমাদের লেখক মহলে, প্রথমত হুমায়ুন আজাদ ইতিমধ্যেই বিখ্যাত তাঁর বিধ্বংসী কলাম ও প্রবন্ধের কারণে, অন্যদিকে, কেতকী কুশারীও ওরকম বিধ্বংসী নাহলেও প্রথাবিরোধিতার খ্যাতির পালক তাঁর মুকুটেও গেথে আছে। 

কবিতায় তিনি প্রথার শৃঙ্খল ভেঙে কতটা এগিয়েছেন জানি না, তবে প্রবন্ধে তাঁর জ্ঞানভাণ্ডারের এক অলংকৃত বিন্যাস ও বয়ান আমাদেরকে মুগ্ধ করেছিল শুরু থেকেই। জ্ঞান আমরা কমবেশি সবাই আহরণ করি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জ্ঞানকে নিকশিত করা। তিনি সেই কাজটি অসামান্য প্রতিভাবলে নিষ্পন্ন করেছেন।  তাঁর সমসাময়িক কিংবা পরেও যারা লেখালেখি করেছেন, কে আর সমান স্বাচ্ছন্দ্যে এত সব বিষয়ে বিশ্ববিহারী হতে পেরেছেন! তাঁর মধ্যে বহুমুখী পাঠের বিস্তার যেমন ছিল, তেমনি, যখনই কোনো বিষয়ে লিখেছেন তা হয়ে উঠেছে সুশৃঙ্খল এক নির্মাণ। রঙের রবীন্দ্রনাথ-এর মতো বই যে লিখিত হতে পারে, তা আমাদের কল্পনায়ও আসেনি। এই বই কেবল পাণ্ডিত্য দিয়েই লেখা সম্ভব নয়, দরকার হয় গবেষণা ও পরিশ্রম, কেতকী এ বিষয়ে ছিলেন অক্লান্ত। রবীন্দ্রনাথ ও ভিকতোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে যখন প্রকাশিত হলো, তখন আমি তাঁর স্থায়ী পাঠক হয়ে উঠলাম। এর কারণ এই বিষয়ে আমার আগ্রহ আগে থেকেই অঙ্কুরিত হয়ে উঠেছিল, কেতকী কুশারীর এই বই সেই অঙ্কুরকে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে। বইটি প্রথমে বেরিয়েছিল ১৯৮৫ সালে, আমি  হাতে পেয়েছিলাম বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ যা ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ব্যাক কভারে বলা হয়েছিল: “ অভিনব পদ্ধতিতে নির্মিত এই বই যেন এক নদী, যার একটি ধারা কেতকী কুশারী ডাইসনের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, অপর ধারা তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। দুটি ধারা মিলিত হয়েছে সৃষ্টির ও অন্বেষণের এক বিচিত্র কল্লোলে। ঠিক এই স্বাদের অন্য কোনো বইয়ের কথা জানা নেই আমাদের।”

কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের দুই ভিন্ন কাঠামোকে তিনি কেবল একত্রিতই করেন নি, ভিকতোরিয়া ওকাম্পো, রবীন্দ্রনাথ ও এলমহার্স্ট-এর ত্রিভূজ সম্পর্কের এক অনুসন্ধানকে তিনি বিনুনির মতো গেথে দিয়েছেন এই গ্রন্থে। এই অনুসন্ধান যে আসলে তাঁর In Your Blossoming Flower-Garden বইটির এক পূর্বাভাস, তা জানা গেল ১৯৮৮ সালে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর। ওকাম্পো ও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে বাংলা, ইংরেজি, এমনকি স্প্যানিশেও রচিত এটিই এখনও পর্যন্ত অদ্বিতীয় এক গ্রন্থ। এত গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এর আগে আর কোনো রবীন্দ্র-গবেষক করেছেন বলে মনে হয় না। কেতকী কুশারীর গবেষণার মৌলিকতার গুণ ও গুরুত্বের কারণেই বইটি পরে স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পো সম্পর্কে গালগল্প ও অতি-রঞ্জনের অভাব ছিল না, কিন্তু তাঁর মতো করে আর কেউ-ই এতটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সম্পর্কের পূর্বাপর যাচাই করে দেখেননি। চলন্ত নির্মাণ গ্রন্থে তাঁর রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পো বিষয়ক আরও কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে যা পূরিপূরক হিসেবে গ্রাহ্য হতে পারে। এই গ্রন্থেই আরেকটি বিরাট আবিস্কার হচ্ছে স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের একটি সাক্ষাতকার।  বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের প্রচুর সাক্ষাতকার রয়েছে, কিন্তু স্প্যানিশভাষী একটি দেশে মাসাধিক কাল কাটালেন, অথচ সেই ভাষায় প্রকাশিত কোনো সাক্ষাতকারের হদিস আমাদের জানা ছিল না। কেতকী কুশারীই প্রথম এই সাক্ষাতকারটি আমাদের নজরে আনেন এবং স্প্যানিশ থেকে তা বাংলায় তর্জমা করেন। 

২০১১ সালের দিকে আমি যখন বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাতকারের একটি সংকলন তৈরির কাজ হাতে নেই, তখন এই সাক্ষাতকারটি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর অনুমতি চেয়ে একটা মেইল করেছিলাম, তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে অনুমতি দিয়ে বাধিত করেছেন এবং বইটি সম্পর্কে কৌতূহল জানিয়েছিলেন। কেতকী কুশারী ডাইসনের সাথে সেটাই ছিল আমার প্রথম যোগাযোগ। এর পর আর কখনো যোগাযোগ হয়নি তাঁর সাথে। কিন্তু আশ্চর্য হয়েছিলাম জেনে যে তিনি আমাকে দূর থেকে নজরে রেখেছিলেন। সেটা জানতে পারলাম আমার পরম শ্রদ্ধেয়, মেধা ও মননের প্রাচুর্যের কারণে যার প্রতি আমার তীব্র অনুরাগ, সেই সুব্রত (শংকর ধর) দার এক বার্তা পেয়ে। আমি তখনও জানি না যে ২০১৫ সালে কাছে-দূরের কক্ষপথে নামে কেতকী কুশারী ডাইসনের এক বিপুলাকৃতির প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে। সুব্রত দা জানালেন যে এই বইয়ের কোনো এক জায়গায় নাকি আমার নাম উল্লেখিত হয়েছে। সন্দেহ নেই যে কথাটা জেনে আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিলাম। কোনোভাবেই মাথায় আসছিল না আমি কীভাবে বা কী কারণে উল্লেখিত হতে পারি তাঁর কক্ষপথে। সুব্রত দা উল্লেখিত জায়গাটি ছবি তুলে পাঠালেন আমাকে। পরে আমি নিজে বইটি কিনে পড়তে গিয়ে লক্ষ্য করলাম, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ‘সমীর সেনগুপ্তর স্মরণে দু’-চারটি কথা’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে প্রসঙ্গক্রমে আমার কথা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখের প্রেক্ষাপটটা হচ্ছে, ২০১১-র শেষ আর ২০১২-র শুরুতে তিনি দিন দশেকের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। তখন উত্তরাধিকার পত্রিকার দু-একটি সংখ্যা তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন: “কার্তিক ১৪১৮ সংখ্যায় হঠাৎ চোখে পড়লো প্রখ্যাত বোর্হেস-বিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিনের করা একটি আলোচনা—ঐ পত্রিকায় ব্যবহৃত বানান অক্ষুণ্ণ রেখেই উদ্ধৃতি দিচ্ছি—”...। বলা বাহুল্য, এরপর উত্তরাধিকারের একটি সংখ্যায় প্রকাশিত বোর্হেসের কবিতার অনুবাদ বিষয়ক আমার একটি লেখা থেকে তিনি দীর্ঘ প্যারাগ্রাফ উদ্ধৃত করেছেন। বইয়ের পৃষ্ঠার অর্ধেকটা জুড়ে আমার লেখার উদ্ধৃতি দেখে বিস্ময় ও শিহরণ অনুভব করেছি অনুজের প্রতি অগ্রজের পাঠের এই আদর আর সমর্থন দেখে। 

যে-সময়টায় তিনি ঢাকা এসেছিলেন তখন আমিও ঢাকায়, অথচ তাঁর সাথে দেখা হয়নি—এটা আমার জন্য বেদনাদায়ক এক আফসোস হয়ে থাকলো। খুব ইচ্ছে ছিল এই প্রতিভাবান লেখককে সাক্ষাতে দেখার। সাক্ষাতে তাঁর কাছ থেকে বহু কিছু জানার ছিল, ছিল এমন কিছু কৌতূহল যা তাঁর ও আমার এক অভিন্ন আগ্রহের বিষয়। তবে সর্বোপরি, দেখা হলে আমি তাঁকে পাঠের ঋণের কথা বলতাম, বলতাম তিনি যে কাছে দূরের কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে যা নির্মাণ করে গেছেন তা স্থায়ী সম্পদ ও প্রদর্শক হয়ে থাকবে বাঙালীর জীবনে, এমনকি বাঙালির বাইরে ইংরেজি ও স্প্যানিশভাষীদের জীবনেও। বাঙালি লেখকদের মধ্যে কে আর ভাষা ও জ্ঞানের সীমা পেরিয়ে এত দূর বিস্তৃত হতে পেরেছেন তাঁর মতো! তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাই।