১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ বছরে মির্জা ফখরুলের আয় বেড়েছে সামান্য, সম্পদ বেড়ে আড়াইগুণ

মির্জা ফখরুলের চেয়ে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের আয় বেশি, সম্পদও বেশি।

৭ বছরে মির্জা ফখরুলের আয় বেড়েছে সামান্য, সম্পদ বেড়ে আড়াইগুণ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jan 2026, 11:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:32 PM

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নির্বাচনি হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা; আর তার সম্পদের পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি।

এই হিসেবে গত সাত বছরে তার আয় মাত্র ৫২ হাজার টাকা বাড়লেও সম্পদের পরিমাণ বেড়ে আড়াইগুণ হয়েছে। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী। ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। অবশ্য শেষবার তিনি জয়ী হলেও শপথ নেননি। 

হলফনামা অনুয়ায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলামের বয়স ৭৭ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর।

২০১৮ সালের হলফনামা বলছে, সে সময় মির্জা ফখরুলের বার্ষিক আয় ছিল ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা। 

আর এবারের হলফনামায় কৃষি, ব্যবসা, শেয়ার ও পরামর্শক হিসেবে সম্মানী ভাতা মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, গত সাত বছরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বার্ষিক আয় বেড়েছে মাত্র ৫১ হাজার ৭০০ টাকা। 

আয়ের বিবরণীতে দেখা যায়- কৃষি খাত থেকে মির্জা ফখরুলের বছরে আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে)। 

পরামর্শক হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী ভাতা পান প্রায় ৮ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংক মুনাফ থেকে আরো ৭ হাজার ৯০১ টাকা আসে। 

২০১৮ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বিএনপির মহাসচিবের তখন ৬২ লাখ ১০ হাজার ৬২৬ টাকার সম্পদ ছিল। 

আর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। 

এখন তার হাতে নগদ আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা। শেয়ারে আছে আরো ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণ, একটি গাড়ি এবং একটি দোনলা বন্দুক আছে তার। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯ টাকা। 

আর কৃষি ও অকৃষিজমি, ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দোতলা বাড়ির একটি অংশের মালিকানা ও মার্কেটের শেয়ার মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পত্তির (অর্জনকালীন) দাম ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮১৪ টাকা।

৫০ মামলা

এবারের হলফনামায় ফখরুল তার বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলার কথা লিখেছেন। এরমধ্যে ৪৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও বাকি তিনটিতে খালাস পেয়েছেন। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা কেরা হয়েছিল। ‘রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার’ জন্য এসব মামলা করা হয়েছিল বলে মির্জা ফখরুলের অভিযোগ। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম

স্ত্রীর সম্পদ বেশি

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের কথা বলা হয়েছে। 

অর্থাৎ, মির্জা ফখরুলের চেয়ে তার স্ত্রী প্রায় এক কোটি টাকা টাকার বেশি সম্পদের মালিক। 

রাহাত আরার ২০ ভরি স্বর্ণসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আর মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার।

রাহাত আরার কৃষি ও অকৃষিজমি (অর্জনকালী মূল্য ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা), ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ শতাংশ জমি (মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা) ছাড়াও ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ৫ কাঠা জমি (অর্জনকালীন মূল্য ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা) রয়েছে। 

গুলশান-২ নম্বরে ১ হাজার ৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে; যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মির্জা ফখরুল ৭২ হাজার ৮৮৯ টাকার আয়কর দিয়েছেন। তার স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮৫ টাকা। আয়কর বিবরণীতে মির্জা ফখরুলের স্ত্রীর বছরের আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৩ টাকা। 

হলফনামার শেষে ফখরুল অঙ্গীকার করে বলেছেন, তিনি দ্বৈত নাগরিক নন এবং সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ যোগ্য।