Published : 21 Jan 2026, 06:12 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেছেন, প্রতি কেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন সদস্য ছাড়াও সিসি ক্যামেরা ও পুলিশ সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা থাকবে। নিরাপত্তায় ওড়ানো হবে ড্রোন।
বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রেসসচিব।
তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনেই নির্বাচন হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপা শুরু হবে।”
ভোটের মাঠের চিত্র
• নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি দল।
• ৩০০ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি।
• নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ২ হাজার ৫৮০ জন। মনোনয়নপত্র বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে এখন ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১ হাজার ৯৭২ জন।
• নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন ৫৯৮ জন।
• ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, আর নারী ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি। হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রতি ভোটকেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিত বাহিনীর সদস্য আর কেউ ‘অনিয়মিত’।
“মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ, একজন বিজিবি সদস্য, সাধারণ আনসার ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। আর যেগুলো ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হবে, সেগুলোতে আরো কিছু লোক বাড়ানো হতে পারে।”
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পর সেগুলোর অনেকগুলোকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। যেমন- কোনো একটা কেন্দ্রের দেয়াল ভাঙ্গা ছিল, মেরামতের পর সেটা আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় থাকছে না।
“পুলিশ সদস্যরা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে মোট ২৫ হাজার ৫০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এরই মধ্যে সব ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহার উপযোগী হয়েছে “
তিনি বলেন, “বুধবারের মিটিংয়ে এগুলোর (বডিওর্ন ক্যামেরা) একটা ট্রায়াল করা হয়। সেখানে এসওএস বাটন থাকছে। একটা সুরক্ষা অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে এসওএস অ্যাক্টিভ করলে জেলা বা সেন্ট্রালি সংযুক্ত হবে। তাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি বা উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পদক্ষেপ নিতে পারে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপের নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে। নির্বাচনে যে ৯ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন, তাদের ৯০ শতাংশের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।”
সেনাবাহিনীর ১ লাখের বেশি সদস্য থাকার তথ্য দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, নৌবাহিনী থাকবে ৫ হাজারের উপরে ও বিমান বাহিনী থাকবে ৩ হাজার ৭৩০ জন। পুলিশের থাকবে দেড় লাখ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার সদস্য। বিজিবির থাকবে প্রায় ৩৮ হাজার ও কোস্টগার্ড থাকবে সাড়ে ৩ হাজার, ফায়ার সার্ভিসের থাকবে ১৩ হাজার ৩০৯ সদস্য।
“এই প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিসকে যুক্ত করা হল। যাতে তারা দ্রুত রেসপন্স করতে পারেন। ফায়ার দুর্ঘটনা হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
এবারের নির্বাচনে পাঁচশর মতো ড্রোন থাকবে। সরকারি সংস্থাগুলো এসব ড্রোন পরিচালনা করবে।
প্রেস সচিব বলেন, “কাজেই আশেপাশে রেস্ট্রিকশন (বিধিনিষেধ) থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ ড্রোন ওড়াতে না পারে।”
নির্বাচনের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ থাকবে না সেখানে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করবে।”
অনেক প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে। সেসব এলাকার ভোটকেন্দ্রে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশের পক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব কিনা, এ প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, “ভোট কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরা এবং বডিযওর্ন ক্যামেরা দিয়ে সেন্ট্রালের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আর ‘স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী।
“কোনো ঝামেলা হলে তারা ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যেতে পারবে এমন দূরত্বে অবস্থান করবে। কাজেই এ বিষয়টি নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত নই। বরং এবার নির্বাচনে রেকর্ড ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।”
এ পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের বরাতে তথ্য দেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অতীত স্বৈরাচারের লোকেরা এগুলো করছেন। সরকার এগুলোর বিষয়ে সচেতন আছে।”
আরও পড়ুন-