Published : 11 Feb 2026, 09:59 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি।
এ নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোট দিতে পারবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, আর নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া এক হাজার ২৩২ জন হিজড়া ভোটার আছেন।
বৃহস্পতিবার ২৯৯ আসনে ভোট হবে, প্রার্থীর মৃত্যুতে পরে নির্বাচন হবে একটি আসনে।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তির জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট হচ্ছে; ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি নাগরিক নিবন্ধন সেরেছেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসির অধীনে এবার ভোট হচ্ছে। এ কমিশনে রয়েছেন চার নির্বাচন কমিশনার—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, তাহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসি সচিব রয়েছেন আখতার আহমেদ।
>> পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র, যাতে থাকবে ২ লাখ ৪৭,৪৮২ টি ভোটকক্ষ।
>> ৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার গোপনকক্ষ (মার্কিং প্লেস) বাড়ানো হয়েছে।
এবার প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে পুলিশের জন্য ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকছে।
‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার হচ্ছে ভোটের জন্য। অ্যাপটি কেবল নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা আশপাশে সহিংসতা বা গোলযোগ হলে অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে।
নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৯ লাখের কাছাকাছি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার। ইতোমধ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য মোতায়েন করা রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য এক হাজার ২১০টি প্লাটুনে মোতায়েন করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করছে ১০টি জেলার ৬৯টি ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছে। ১৭টি আসনে দায়িত্ব পালন করা কোস্ট গার্ডের এ সদস্য সংখ্যা ৩,৫৮৫। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য, আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। র্যাবের মোতায়েন রয়েছে ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবং বিএনসিসির এক হাজার ৯২২ জন সদস্য মোতায়েন থাকছে।
নির্বাচনে ৮০টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন; এরমধ্যে রিটার্নিং অফিসার কার্ড দিয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫৭টি আর ইসি থেকে কার্ড দেওয়া হয় ৮ হাজার ৪৩৮টি।
এছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন।
নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা আছেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার থাকবেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
এর পাশাপাশি ২৯৯ আসনে পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন ৫ হাজার ৮৯৬ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
ভোটের হার ১২ নির্বাচনের
|
প্রথম সংসদ |
দ্বিতীয় সংসদ |
তৃতীয় সংসদ |
চতুর্থ সংসদ |
পঞ্চম সংসদ |
ষষ্ঠ সংসদ |
সপ্তম সংসদ |
অষ্টম সংসদ |
নবম সংসদ |
দশম সংসদ |
একাদশ সংসদ |
দ্বাদশ সংসদ |
|
৭ মার্চ ১৯৭৩ |
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ |
৭ মে ১৯৮৬ |
৩ মার্চ ১৯৮৮ |
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ |
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ |
১২ জুন ১৯৯৬ |
১ অক্টোবর ২০০১ |
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ |
৫ জানুয়ারি ২০১৪ |
৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ |
৭ জানুয়ারি ২০২৪ |
|
৫৫% |
৫১.১২% |
৫৯.৫৮% |
৫৪.৯২% |
৫৫.৪৫% |
২৬.৫% |
৭৪.৯৬% |
৭৫.৫৯% |
৮৭.১৩% |
৪০.০৪% |
৮০% |
৪২% |
ভোটার কত
|
নির্বাচন |
মোট ভোটার (জন) |
ভোট দেন |
ভোটের হার |
|
প্রথম সংসদ |
৩,৫২,০৫,৬৪২ |
১,৯৩,২৯,৬৮৩ |
৫৫% |
|
দ্বিতীয় সংসদ |
৩,৮৩,৬৩,৮৫৮ |
১,৯৬,৭৬,১২৪ |
৫১.১২% |
|
তৃতীয় সংসদ |
৪,৭৮,৭৬,৯৭৯ |
২,৮৫,২৬,৬৫০ |
৫৯.৫৮% |
|
চতুর্থ সংসদ |
৪,৯৮,৬৩,৮২৯ |
২,৫৮,৩২,৮৫৮ |
৫৪.৯২% |
|
পঞ্চম সংসদ |
৬,২১,৮১,৭৪৩ |
৩,৪৪,৭৭,৮০৩ |
৫৫.৪৫% |
|
ষষ্ঠ সংসদ |
৫,৬৭,০২,৪১২ |
১,১৭,৭৬,৪৮১ |
২৬.৫% |
|
সপ্তম সংসদ |
৫,৬৭,১৬,৯৫৩ |
৪,২৮,৮০,৫৭৬ |
৭৪.৯৬% |
|
অষ্টম সংসদ |
৭,৪৯,৪৬,৩৬৪ |
৫,৬১,৮৫,৭০৭ |
৭৫.৫৯% |
|
নবম সংসদ |
(ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরু) ৮,১০,৮৭,০০৩ |
৭,০৬,৪৮,৪৮৫ |
৮৭.১৩% |
|
দশম সংসদ |
(১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা) ৯১,১৯,৬৫,১৬৭ |
(ভোট ১৪৭ আসনে) ১,৭৩,৯২,৮৮৭ |
৪০.০৪% |
|
একাদশ সংসদ |
১০, ৪১,৯০,৪৮০ |
৮,৩৫,৩২,৯১১ |
৮০.২০% |
|
দ্বাদশ সংসদ |
১১,৯৩,৩২,৯৩৪ |
৪ কোটি ৯৯ লাখের বেশি |
৪১.৮% |
|
ত্রয়োদশ সংসদ |
১২,৭৭,১১,৭৯৩ |
|
|
তিন হাজার কোটি টাকার ভোট
এবারের নির্বাচনে ৫০টি দল ভোটে অংশ নিচ্ছে। দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র রয়েছেন ২৭৩ জন, বাকিরা দলীয় প্রার্থী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা খাত মিলিয়ে এবার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,১০০ কোটি টাকা, যা আগের দুই বছর আগের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা বেশি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ পাওয়া ৩১০০ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। আর আইন-শৃঙ্খলা খাতে ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। অন্যান্য খাতে ওসিভি, আইসিপিভি, গণভোট মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় ও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ কাটছাঁট শেষে পূর্ণাঙ্গ ব্যয় কমবেশি হতে পারে বলে ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
বিভিন্ন ভোটে কোন দলের কী অবস্থান (১৯৭৩-২০২৪)
|
|
আওয়ামী লীগ |
বিএনপি |
জাতীয় পার্টি |
জামায়াতে ইসলামী |
||||
|
সাল |
ভোট প্রাপ্তির হার |
আসন |
ভোট প্রাপ্তির হার |
আসন |
ভোট প্রাপ্তির হার |
আসন |
ভোট প্রাপ্তির হার |
আসন |
|
১৯৭৩ |
৭৩.২০% |
২৯৩ |
- |
- |
- |
- |
|
|
|
১৯৭৯ |
২৬.৮৩% |
৩৯ |
৪১.১৬% |
২০৭ |
- |
|
|
|
|
১৯৮৬ |
২৬.৮৩% |
৭৬ |
- |
- |
৪২.৪৩% |
১৫৩ |
৪.৬১% |
১০ |
|
১৯৯১ |
৩০.০৮% |
৮৮ |
৩০.৮১% |
১৪০ |
১১.৯২% |
৩৫ |
১২.১৩% |
১৮ |
|
১৯৯৬ |
৩৭.৪৪% |
১৪৬ |
৩৩.৬০% |
১১৬ |
১৬.৪০% |
৩২ |
৮.৬১% |
৩ |
|
২০০১ |
৪০.১৩% |
৬২ |
৪০.৯৭% |
১৯৩ |
৭.২৫% |
১৪ |
৪.২৮% |
১৭ |
|
২০০৮ |
৪৮.০৪% |
২৩০ |
৩২.৫০% |
৩০ |
৭.০৪% |
২৭ |
৪.৭০% |
২ |
|
২০১৪ |
৭২.১৪% |
২৩৪ |
- |
- |
৭% |
৩৪ |
- |
- |
|
২০১৮ |
৭৬.৮০% |
২৫৭ |
১৩.৫১% |
৬ |
৫.৩৭% |
২২ |
- |
- |
|
২০২৪ |
৬৬% |
২২২ |
- |
- |
৩.৪১% |
১১ |
- |
- |
এবারের গণভোটে কী প্রশ্ন
বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মত গণভোট হতে যাচ্ছে এবার। এর আগে ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে গণভোটে অংশ নিয়েছে দেশের মানুষ।
জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য এবারের গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হবে।
ব্যালট পেপার যেমন—
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি আছে?: (হ্যাঁ/না)
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে—সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।
গণভোটের ইতিবৃত্ত
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার পদ্ধতিই হল গণভোট। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্তভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের জন্য উপস্থাপিত হয়।
>> স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে তিনবার গণভোট হয়েছে।
>> ১৯৭৭ সালের ৩০ মে প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য। প্রদত্ত ভোটের ৯৮.৮% ‘হ্যাঁ’ ভোট; ১.১২% ‘না’ ভোট পড়েছিল।
>> ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ দেশে দ্বিতীয়বার গণভোট হয় তখনকার রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুসৃত নীতি ও কর্মপন্থার প্রতি আস্থা এবং স্থগিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত তার রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকার বিষয়ে জনগণের সিদ্ধান্ত জানতে। মূলত সামরিক শাসকের বৈধতা দেওয়ার জন্য সেই গণভোট হয়েছিল। প্রদত্ত ভোটের ৯৪.১১% ‘হ্যাঁ’ এবং ৫.৫০% ‘না’ ভোট পড়েছিল সেবার।
>> ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ১৪২ (১ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৃতীয়বার গণভোট হয়। এ গণভোট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সামনে প্রশ্ন ছিল- ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল, ১৯৯১-এ রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া উচিত কি না?’ ভবিষ্যতে দেশে কোন ধরনের সরকার পদ্ধতি চলবে, জনগণের কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল এ প্রশ্নের মাধ্যমে। সেবার ৮৪% ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১৫.৬২% ‘না’ ভোট পড়েছিল।