Published : 03 Feb 2026, 01:14 PM
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিদ্বন্দ্বী নাহিদ ইসলাম যে রিট মামলা করেছিলেন, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ আগের দিন হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট মামলাটি করেছিলেন।
এতে কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং নির্বাচনি হলফনামায় সেই তথ্য ‘গোপনের’ অভিযোগে আনা হয়। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছিল রিট আবেদনে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। কাইয়ুমের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আহসানুল করিম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ।
পরে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “মোটাদাগে আমরা যেটা বলেছি যে, এই রিট পিটিশনটা এ পর্যায়ে (প্রচার চলার মধ্যে) তিনি (নাহিদ ইসলাম) দায়ের করতে পারেন না। এবং তার গ্রিভেন্স (অভিযোগ) যদি কিছু থেকে থাকে জনাব কাইয়ুম সাহেবের বিরুদ্ধে, নির্বাচনের মাঠে গিয়ে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
“সেই নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরে যদি এম এ কাইয়ুম সাহেব যদি নির্বাচিত হন— এবং আমরা বিশ্বাস করি তিনি নির্বাচিত হবেন ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে; তখন তিনি পিটিশন করে সেটা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।”
রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা সোমবার বলেছিলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের অযোগ্য।
“জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী জনাব নাহিদ ইসলাম, তিনি আজকে একটি রিট মামলা দায়ের করেছেন। একই আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব এম এ কাইয়ুম, তিনি তার হলফনামায় তিনি ভানুয়াতু নামে একটি দেশের নাগরিক, সেই তথ্যটি তিনি গোপন করেছেন। যেটা পরে 'ডিসক্লোজ' হয়েছে এবং সে তথ্যগুলো আপনারা দেখেছেন ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং অন্যান্য মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে, তার পাসপোর্ট দেখা গেছে।"
নির্বাচন কমিশনে আপিল না করে সরাসরি হাই কোর্টে রিট দায়েরের ব্যাখ্যায় আইনজীবী মূসা বলেছিলেন, “নির্বাচন কমিশনে আপিল করার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই তথ্যটি আমাদের জানা ছিল না। পরবর্তীতে এটি প্রকাশ হয়।
"যেহেতু আপিল করার সময় পার হয়ে গেছে, তাই আমরা সংবিধান অনুযায়ী হাই কোর্টের রিট এখতিয়ারে এসেছি।"
রিট মামলা খারিজ হওয়ার পর আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “অনলাইনে সোশাল মিডিয়াতে উনি বলেছেন, ফেইসবুকে দেখেছেন যে জনাব কাইয়ুম সাহেব ভানুয়াতু নামক একটা দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করছেন। ফেইসবুকের উপরে বিশ্বাস করাটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং কতটা বিপজ্জনক, সেটা আমরা দেখেছি… আমি নিজে আইনজীবী হিসেবে আমাকেও এআই দিয়ে অন্য একটা দেশের নাগরিক বানিয়ে দিয়েছে।
“সুতরাং ফেইসবুকের উপর নির্ভর করে— আর একটা বললাম যে আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা, আদালতগুলো পরিচালিত হয় আমাদের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী।”
কাইয়ুমের এই আইনজীবী বলেন, “ভিন্ন দেশের কোনো একটা ডকুমেন্টের উপরে যার কোনো ভিত্তি নাই এবং আমাদের সুস্পষ্ট তথ্য এবং আমরা আদালতকে বলেছি জনাব এম এ কাইয়ুম এ ধরনের কোনো নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। তিনি বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় নির্যাতিত হয়ে মালয়েশিয়াতে নেকটা রিফিউজি স্ট্যাটাসে বসবাস করছিলেন, ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
“সুতরাং এর সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা তথ্যের উপর ভিত্তি করে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রার্থিতা বাতিল করার জন্যে চেষ্টা করা হয়েছে।”
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কাজল বলেন, “আমরা আদালতকে এ কথা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্যে মানুষের কাছে যাবে, ভোটারদের কাছে গিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবে। ভোটাররা যাকে পছন্দ করবেন, তাকে নির্বাচিত করবেন।
“ভোটের মাঠ ছেড়ে কোর্টের মাঠে এসে আরেকজনের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে উনার মনোনয়নপত্র বাতিল করার এইটা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ধারা হতে পারে না।
“আর একটি কথা আমরা বলেছি, বিগত সময় এই বাংলাদেশে এমন নির্বাচন হয়েছে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগেই ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা এ ধরনের কোনো নির্বাচন চাই না। আমরা বাংলাদেশের নির্বাচন চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।”
যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম এবং এম এ কাইয়ুম উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
'ভানুয়াতুর' নাগরিক বিএনপির কাইয়ুম: প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ