১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোটের বাধা কাটল

সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা চূড়ান্ত হল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jan 2026, 06:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

নির্বাচন কমিশনের সেপ্টেম্বরের গেজেট অনুসারে পুনর্নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সঙ্গে পাবনা-১ ও ২ আসনেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে।

হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা একটি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

এর ফলে পাবনার আসন দুটির সীমানার ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেট বহাল থাকছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ (নির্বাচনী এলাকা: ৬৮) এবং সুজানগর উপজেলা এবং একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন (বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন) ছাড়া বেড়া উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে পাবনা-২ (নির্বাচনী এলাকা: ৬৯) আসনের সীমানাই চূড়ান্ত হল।

এই সীমানা ধরেই গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাই কোর্টে রিট মামলা করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট রুল জারি করে। সেই রুল শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় দেয় হাই কোর্ট।

পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা সংক্রান্ত গেজেটের অংশটুকু ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয় ওই রায়ে।

সেই সঙ্গে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর নির্বাচন কমিশন পাবনার আসন দুটি নিয়ে ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে আগের মত পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন দেখানো হয়। আর বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা দেখানো হয়।

হাই কোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন আলাদা আবেদন করে। ৫ জানুয়ারি সেসব আবেদন শুনে নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বাহল থাকবে।

এর ফলে পাবনার এ আসন দুটির ক্ষেত্রে ইসির ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট বহাল হয়ে যায়। অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা বহাল হয়।

সীমানা নিয়ে এই জটিলতার কারণে নির্বাচন কমিশন ৯ জানুয়ারি জানায়, আদালতের পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা ১ ও ২ আসনে ভোটের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৩ জানুয়ারি আপিলের আবেদন করেন পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। পাবনা-১ ও ২ আসনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা চাওয়া হয় সেখানে।

সেই আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। আদালতে ইসির পক্ষে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। পাবনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

শুনানি শেষে আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ১২ জানুয়ারি ভোট হতে হবে এবং পাবনা ১ ও পাবনা ২ আসনের নির্বাচন হবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী।

পরে অ্যাডভোকেট ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাপিলেট ডিভিশন লিভ গ্র্যান্ট করেছে। অর্থাৎ আপিল দায়ের করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপিলেট ডিভিশন আরও কিছু আদেশ দিয়েছে।

“প্রথমত, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় স্থগিত থাকবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। দ্বিতীয়ত, ২৪ ডিসেম্বর ইলেকশন কমিশনের গেজেট নোটিফিকেশন, যার মাধ্যমে তারা হাই কোর্টের আদেশকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছিল, সেই গেজেট নোটিফিকেশনও স্থগিত থাকবে। তৃতীয়ত, গত ৬ জানুয়ারি ইলেকশন কমিশন যে আদেশ জারি করেছিল, যেই আদেশের মাধ্যমে তারা পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছিল, সেই আদেশও স্থগিত থাকবে।”

এ আইনজীবী বলেন, “অ্যাপিলেট ডিভিশন নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং সেই নির্বাচনটি ইলেকশন কমিশনের ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখের গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী হতে হবে। এই ছিল অ্যাপিলেট ডিভিশনের আদেশের সারমর্ম।”

পাবনার দুই আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আর কোনো বাধা আছে কিনা প্রশ্ন করলে অ্যাডভোকেট ইমরান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি হতে আর কোনো বাধা নাই, শুধু তাই না, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই ইলেকশন করতে হবে, এটা ইলেকশন কমিশনের উপরে নির্দেশ।”