গাছের পাতা হলদেটে, কমেছে পাখির আনাগোনা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডিএপি সার কারখানার ট্যাংক ফুটো হয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় গাছপালা ও জলাশয়ে ক্ষতিকর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোমোস্তফা ইউসুফবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 August 2016, 05:17 PM
Updated : 25 August 2016, 12:00 PM

বুধবার কারখানার আশপাশ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকার গাছের পাতা হলদেটে হয়ে গেছে, কুঁকড়ে গেছে। রাঙ্গাদিয়া গ্রামে কমে গেছে পাখির আনাগোনা। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এ কে খান প্রজেক্টের মাছ মরে গেছে।

কর্ণফুলী নদীর তীরে সিইউএফএল সংলগ্ন সার কারখানাটিতে সোমবার রাত ১০টার দিকের ওই দুর্ঘটনার পর অ্যামোনিয়া গ্যাস পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দরসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অর্ধশতাধিক মানুষকে অসুস্থ হয়ে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে।

রাঙ্গাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিন্নাত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুর্ঘটনার পর রাতেই পরিবার নিয়ে অন্য গ্রামে চলে যান তিনি।

“পরে এসে দেখি মরে গেছে পুকুরের মাছ। হলুদ হয়ে গেছে ভিটার গাছ। পুরো এলাকায় এ অবস্থা হয়েছে।”

বিবর্ণ গাছের সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কলেজছাত্রী রিহান নূর বলেন, পুরো এলাকায় নানা জাতের পাখি আনাগোনা করত। দুর্ঘটনার পর থেকে তেমন পাখি দেখা যাচ্ছে না।

বুধবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, “গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় কিছু ক্ষতি হয়েছে। এখনও কিছু আভাস (গ্যাসের গন্ধ) পাচ্ছি।”

দুঘর্টনায় ক্ষতিগ্রস্ত এ কে খান মৎস্য প্রকল্পের কর্মচারী মো. তৌহিম বলেন, এখানে প্রায় ১০ প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। প্রতিবছর ৪৫০ থেকে ৫০০ টন মাছ ধরা হয় এখান থেকে।

প্রায় ৪০০ একর জায়গাজুড়ে থাকা প্রকল্পের ওপর শখানেক মানুষ নির্ভরশীল জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন আমাদের সামনে অন্ধকার। মালিক হয়ত সরকারি সহায়তা পাবে, কিন্তু আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব?”

প্রায় ১০ কিলোমিটর এলাকাজুড়ে করা ওই প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে নাইলোটিকা, কোরালসহ নানা জাতের মৃত মাছ। ভেসে আছে মরা ব্যাঙ ও সাপ। এগুলো পচতে শুরু করায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এখানকার কর্মচারী জমির মিয়া বলেন, ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছ মরে আছে। এত মাছ সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব না।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ডিএপি সার কারখানার পূর্ব ও উত্তর পাশের দুটি পুকুর এবং কারখানার মূল নালা থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে।

অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ কামরুল হাসান বলেন, পূর্ব ও উত্তর পাশের দুটি পুকুরের পিএইচ যথাক্রমে ৯ দশমিক ৯৪ ও ৮ দশমিক ৫৪, যা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-১৯৯৭-বহির্ভূত।

পিএইচ-এর আদর্শ মান ৬ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ বলে তিনি জানান।

এছাড়া অধিদপ্তরের পরীক্ষায় পানিতে সিওডি (কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড) যথাক্রমে ৩২৪ ও ২৬৪, যার আদর্শ মান ২০০।

ডিএপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল কান্তি বড়ুয়া জানান, কারখানা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমপ্ল্যান্টের চীনা প্রকৌশলীরা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

কারখানাটির ট্যাংক ফুটো হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।