২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

বৈঠকে ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গভীর মতবিনিময় করবেন শি।

২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

গত মে মাসে চীন সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 08:37 PM

Updated : 21 Sep 2026, 08:37 PM

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সোমবার জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সফর করবেন শি।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বৈঠকে শি ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গভীর মতবিনিময় করবেন।

গত মে মাসে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সাক্ষাত হওয়ার পর চলতি বছরেই দুই প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠক হবে এটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ গভীর করা, মতপার্থক্য কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা, নাগরিকদের কল্যাণ বৃদ্ধি করা এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে চীন আগ্রহী।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন, যা চলতি বছর তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রিউজে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন এবং পরে হোয়াইট হাউজে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে পূর্ণ সামরিক সম্মান ও তোপধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি’কে। এর পর রোজ গার্ডেনে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পর ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে।

দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, শুল্ক, ইরান ও তাইওয়ানকেন্দ্রিক প্রধান ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেং এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বাণিজ্য বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন।

এতে পূর্বের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর প্রভাবের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ গত মে মাসে সম্মত হওয়া ‘বোর্ড অব ট্রেড’ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে চায়, যার লক্ষ্য অসংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পণ্যের অপেক্ষাকৃত ছোট একটি তালিকার ওপর সম্ভাব্য শুল্ক ছাড় চিহ্নিত করা।

এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষি পণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চীন থেকে সাধারণ ব্যবহার্য পণ্য ও কম প্রযুক্তির সামগ্রী রপ্তানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা বৈঠকের কেন্দ্রে থাকবে। রোববার বেসেন্ট ও লিফেংয়ের বৈঠক শেষ হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন এআই নিরাপত্তা সতর্কীকরণ ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বেসেন্ট জানান, দুই দেশের আলোচনা এআই সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো তৈরিকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত ঘটনায় পারস্পরিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়।

দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকে এই এআই নিরাপত্তা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এআই-এর অস্ত্রীকরণ, অবকাঠামো সুরক্ষা ও সাইবার হামলা প্রতিরোধের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো স্থান পেতে পারে।

তবে এআই চিপস এবং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সরঞ্জামের ওপর মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এই এআই বিষয়ক আলোচনার অংশ হচ্ছে না। তাছাড়া, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিষয়, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নানা নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলোও উভয় পক্ষের আলোচনায় আসবে।