৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদেরকে ইরানের খোলা চিঠি

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রস্তাব গ্রহণ করতে মার্কিনিদেরকে আহ্বান জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদেরকে ইরানের খোলা চিঠি

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 08:18 PM

Updated : 30 Sep 2026, 08:18 PM

আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে দিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রস্তাব গ্রহণ করতে ভোটারদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই দেশটির শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি’র ক্ষমতা ও প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৫ পৃষ্ঠার খোলা চিঠি

মঙ্গলবার মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে ২৫ পৃষ্ঠার খোলা চিঠিতে ওই আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও চিঠিতে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে যুদ্ধ চালানোর বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয় মার্কিনিদেরকে। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন তাদের নীতি পরিবর্তন করলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।

চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হয়, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ রূপটি আড়াল করছেন। অথচ ইসরায়েলই বিশেষত এই পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখে থাকে।

এছাড়া, পারস্য উপসাগরে তেহরানের তেল অবরোধ কতটা কার্যকর, সে তথ্যও ট্রাম্প চেপে রাখছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ মতো বাকি। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের চাপে রয়েছে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে এই চিঠি মার্কিন প্রশাসনের আচরণে কোনও পরিবর্তন আনবে বলে তারা ভাবছেন না। তবে সাধারণ মার্কিন ভোটাররা তাদের এই বার্তা অনুধাবন করতে পারেন বলে তারা আশা করছেন।

মহেব্বি বলেন, “আমেরিকার জনগণ অনেক ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না। আমরা মনে করি, তারা সত্য জানতে পারলে ভিন্নভাবে ভাবতেন এবং অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নিতেন।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর পেছনে ট্রাম্প যেসব যুক্তি দেখিয়েছেন, তার একটি হল, তেহরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি চাইলে পুরো ইরানকে “ধ্বংস” করে দিতে পারেন।

এর জবাবে ইরানের আইআরজিসি-এর মুখপাত্র মহেব্বি বলেন, “শত্রুরা ভাল করেই জানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটছে না।”

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জীবন এমন একজনের হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে, যিনি কেবল পাকা মিথ্যাবাদীই নন, চরম অর্থলোভীও বটে। জীবনে আরও সম্পদ জমানো ছাড়া তার আর কোনও উদ্দেশ্য নেই।”

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে বলে ওয়াশিংটন যে দাবি করেছিল, তাকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান মহেব্বি। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছিল, তারা পাহারা দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে উপসাগর থেকে বের করে আনছে।

এ প্রসঙ্গে মহেব্বি বলেন, “কঠিন ঝুঁকি, বিপুল খরচ ও ঝক্কি সামলে রাতের অন্ধকারে আমেরিকানরা ১০০ বা ২০০ ব্যারেল তেলবাহী ছোট একটি জাহাজ গোপনে পার করে নিলেই বলা যায় না যে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে।”

তবে জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিমাণের প্রায় অর্ধেক।