ভিটো না দেওয়ার প্রতিবাদ: হোয়াইট হাউজে সফর বাতিল করল ইসরায়েল

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বানে প্রস্তাব পাসের পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থান থেকে পিছু হটেছে।

নিউজ ডেস্ক
Published : 25 March 2024, 05:59 PM
Updated : 25 March 2024, 05:59 PM

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাসের পরই ইসরায়েল হোয়াইট হাউজে এ সপ্তাহে তাদের প্রতিনিধিদলের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোমবারের আনা প্রস্তাবনায় যুক্তরাষ্ট্র ভিটো না দিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল। আর তাতেই চটেছে ইসরায়েল।

বিবিসি জানায়, প্রস্তাবনা পাসের পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, তারা আগের অবস্থান থেকে স্পষ্টতই পিছু হটে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আজ জাতিসংঘে তাদের নীতি থেকে সরে গেছে। দুঃখজনকভাবে তারা নতুন প্রস্তাবনাতে ভিটো দেয়নি। যে প্রস্তাবনায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জিম্মি মুক্তির শর্তসাপেক্ষে নয়। এতেই স্পষ্ট হয় যে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান ছিল তা থেকে তারা সরে গেছে।”

“আজকের প্রস্তাবনায় হামাস এই আশা পাবে যে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল জিম্মিদের মুক্তি ছাড়াই যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে। এভাবে ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং জিম্মি মুক্তির চেষ্টা দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

“ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জাতিসংঘ প্রস্তাবনা পাসের আগেই স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তা নীতি থেকে সরে গেলে এবং ক্ষতিকর প্রস্তাবনায় ভিটো না দিলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সফর বাতিল করবেন।

“আর এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, প্রতিনিধিদল ইসরায়েলেই থাকবে”, বলা হয়েছে তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে।

ইসরায়েলের প্রতিনিধিদলের সফর বাতিলের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই হতাশ’ বলে জানিয়েছে। তবে বলেছে, এই সফর বাতিল হলেও আলাদাভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর হবে।

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর বাকি ১৪ সদস্যই প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট দিয়েছে। প্রস্তাবনায় গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি নিঃশর্তে সব জিম্মি মুক্তির আহ্বানও জানানো হয়। পরিষদের ১০ নির্বাচিত সদস্য এই প্রস্তাব এনেছিল।

গাজায় গতবছর অক্টোবরে যুদ্ধের শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো নিয়ে একমত হওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল।

যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়ে এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা একের পর এক প্রস্তবনার বিরোধিতা করেছে। ভোটাভুটিতে ভিটো দিয়ে মিত্র ইসরায়েলের রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবনায় এমনকি ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি ব্যবহারেরও বিপক্ষে ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার তারা প্রথমবারের মতো নিজস্বভাবে আনা খসড়া প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করে।

এরপর সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে আনা প্রস্তাবনায় যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থেকে মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ারই ইঙ্গিত দিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধে ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের মৃত্যুর পর বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এতে গাজায় রোজার মাসের জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের পথ সুগম হয়।