আপিলেও হারলেন শামীমা, ফিরে পাচ্ছেন না ব্রিটিশ নাগরিকত্ব

শামীমা বেগম ২০১৫ সালে আইএস এ যোগ দিতে সিরিয়া গিয়েছিলেন৷ পরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল৷

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2024, 11:59 AM
Updated : 23 Feb 2024, 11:59 AM

মাত্র ১৫ বছর বয়সে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে দেশ ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শামীমা বেগমের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার আপিল খারিজ করেছে আদালত।

শামীমা বেগম তার স্কুলের দুই বান্ধবীসহ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়া গিয়েছিলেন৷ পরে আইএস উৎখাত অভিযানে আশ্রয় হারিয়ে তার ঠাঁই হয় শরণার্থী শিবিরে।

২০১৯ সালে শরণার্থী শিবিরে শামীমার খোঁজ মেলার পর তিনি দেশে ফিরতে চাইলেও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে যুক্তরাজ্য তার নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয়।

ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন শামীমা৷ তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাজ্য সরকার `অবৈধভাবে' তাকে রাষ্ট্রহীন করেছে এবং তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাছাড়া, যুক্তরাজ্যে ফিরতে না পারলে তার পক্ষে আইনি লড়াইও ঠিকমত চালানো সম্ভব নয়।

তার সেই আবেদন শুক্রবার নাকচ করে দিয়েছে লন্ডনের আপিল আদালত৷ শামীমার আইনজীবীরা যেসব যুক্তি দেখিয়েছিলেন সবই খারিজ হয়েছে৷

রায় দেওয়ার সময় বিচারক সু কা বলেন, ‘‘এই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, শামীমা বেগমের মামলায় দেওয়া সিদ্ধান্তটি কঠোর ছিল। এ যুক্তিও দেওয়া যেতে পারে যে, শামীমা বেগম নিজেই নিজের দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছেন৷

“তবে এই দুটি বিষয়ে একমত বা দ্বিমত পোষণ করা আদালতের কাজ না। আমাদের একমাত্র কাজ হল, তার নাগরিকত্ব বাতিল করার সিদ্ধান্তটি বেআইনি ছিল কি না সেটি দেখা। সেদিকটি খতিয়ে দেখে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, সিদ্ধান্তটি বেআইনি ছিল না। ফলে আপিল খারিজ করা হল।”

আদালতের এ রায়ের ফলে শামীমাকে এখন সিরিয়াতেই থাকতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যে ফেরার সুযোগ পাবেন না।

যুক্তরাজ্য সরকার আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখাই আমাদের অগ্রাধিকার। এর অনুকূলে যাওয়া যে কোনও সিদ্ধান্তকেই আমরা দৃঢ় সমর্থন দেব।”

শুক্রবার আদালতের দেওয়া রায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ অধ্যায়, যে লড়াই ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে- যা হতে পারে আবারও।

শামীমা বেগমের মামলা যুক্তরাজ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই যুক্তি দিয়েছেন যে, শামীমা স্বেচ্ছায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন, আবার অনেকেই বলেছেন, শামীমা যখন আইএস এ যোগ দিতে যান তখন তিনি কিশোরী ছিলেন।

সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের এক যোদ্ধাকে বিয়ে করেছিলেন শামীমা। সেখানে তার তিনটি সন্তান হলেও তাদের কেউ বেঁচে নেই।