মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, আগে থেকেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চলা গৃহযুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার নিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দেশটির লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেশটির জন্য আর্থিক বোঝা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে মালয়েশিয়া সরকার এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।
মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটি আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, ফেরত পাঠানো নাগরিকদের একাংশকে মিয়ানমার সরকারের পাঠানো বিশেষ উড়োজাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় গত সপ্তাহে প্রায় ১৪০০ জনকে সমুদ্রপথে স্বদেশে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যাবাসন করা এসব মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বেশ কিছু আইনপ্রণেতার উদ্বেগ জানানোর কথা স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
আনোয়ার বলেন, “আমরা তাদের সামনে দুটি শর্ত রেখেছিলাম। প্রথমত, তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে যেন কোনো ধরনের নির্যাতন, জবরদস্তি বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে।”
তিনি আরও জানান, চলতি মাসেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং কুয়ালালামপুর সফর করবেন।
সেই সময় তার সঙ্গে এই প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
