৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছিনতাই করা ট্যাংকারের ৫ নাবিককে হত্যা করেছে সোমালি জলদস্যুরা

সম্প্রতি সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা আবার বেড়েছে।

ছিনতাই করা ট্যাংকারের ৫ নাবিককে হত্যা করেছে সোমালি জলদস্যুরা

উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জাহাজটিকে মুক্ত করা হয়েছে। ছবি: এফটিএল সোমালিয়া

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 10:11 AM

Updated : 30 Sep 2026, 10:46 AM

সোমালিয়ার উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারের পাঁচ নাবিককে হত্যা করেছে জলদস্যুরা, জানিয়েছে সোমালিয়ার কর্তৃপক্ষ।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্যাংকার এমটি অনার টোয়েন্টিফাইভে হওয়া এসব মৃত্যুর ঘটনা সোমবার ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী জাহাজটি উদ্ধার করার আগেই হত্যার ঘটনাগুলো ঘটে।

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমালি জলদস্যুদের হাতে এটি প্রথম মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সোমালিয়ার উপকূলীয় সাগরে জলদস্যুতা আবার মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জলদস্যুরা ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূল থেকে এমটি অনার টোয়েন্টিফাইভকে ছিনতাই করেছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জাহাজটিতে ১৮৫০০ ব্যারেল তেল আছে।

Image

সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়া তেলবাহী ট্যাংকার ‘অনার টোয়েন্টিফাইভ’-এর অপহৃত পাকিস্তানি নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা করাচিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সরকারের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্যান্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জাহাজটিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যু বন্দি হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই জলদস্যুরা জাহাজটিতে পাঁচ নাবিককে হত্যা করে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি, একজন মিয়ানমারের ও অপরজন ভারতীয়।”

আরও চার নাবিক জখম হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয়।

প্যান্টল্যান্ডের সামুদ্রিক পুলিশ বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, জাহাজটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ‘নিরাপদে’ আছে। এই জাহাজ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

সামুদ্রিক পুলিশ গত সপ্তাহে আরেকটি অভিযান চালিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে সিবু ওয়ান নামের আরেকটি ট্যাংকার উদ্ধার করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এ ট্যাংকারটি জলদস্যুরা অগাস্টে ছিনতাই করেছিল।

এই অভিযানে ৪১ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছিল সামুদ্রিক পুলিশ। কিন্তু কারাগারে হস্তান্তরের সময় তাদের মধ্যে ২৮ জন পালিয়ে যান। প্যান্টল্যান্ডের বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই ঘটনার জন্য স্থানীয় পুলিশের দুর্নীতিকে দায়ী করেছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জাহাজে অন্তত ১৫টি হামলার খবর হয়েছে।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমালিয়ার উপকূলে একের পর এক জলদস্যুতার ঘটনায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত একটি জাহাজ চলাচলের রুট অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। এতে একদিকে বিশ্ব অর্থনীতির শত শত কোটি ডলার ক্ষতি আর অপরদিকে জলদস্যুদের কোটি কোটি ডলার মুক্তিপণ দিতে হয়।