ইউক্রেইনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১১
কিইভের কেন্দ্রস্থলে ইউক্রেইনের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।
রাজধানী কিইভসহ ইউক্রেইনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। কিইভের কেন্দ্রস্থলে ইউক্রেইনের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ড্রোন হামলা সবচেয়ে ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল বলে লিখেছে রয়টার্স।
জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির ভবনে ড্রোনের আঘাতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য অংশে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় আরও ৯ জন নিহত ও ৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
দেশটির জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, বিজ্ঞান একাডেমি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহতদের মধ্যে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে তারা।
কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে হওয়া বেশ কয়েকটি হামলায় ঘটনায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কিইভ ও ইউক্রেইনের অন্যান্য শহরগুলোতে অনেক উঁচু দিয়ে চলা দ্রুতগতির জেট ড্রোন দিয়ে আঘাত হানছে রাশিয়া।
রাত্রিকালীন ভিডিও বক্তৃতায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেইন এখনও রাশিয়ার প্রপেলার চালিতগুলোর চেয়ে এইসব উঁচু দিয়ে ওড়া, দ্রুতগতির জেট ইঞ্জিনের শক্তিতে চলা ড্রোনগুলো প্রতিরোধ করতে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের ছোড়া ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টি জেট চালিত ছিল। ইউক্রেইন মোট ড্রোনের ৫৭ শতাংশ প্রতিরোধ করেছে।
কিইভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজ্ঞান একাডেমির পাশাপাশি রাজধানীতে ওষুধ কোম্পানি, পেট্রল স্টেশন এবং চিকিৎসা স্থাপনাগুলো এবং বেসামরিক স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে।
ইউক্রেইনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর ব্যবসা কেন্দ্রে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দিনিপ্রোর দক্ষিণপূর্বে সিনেঁলনিকোভ শহরে ড্রোন হামলায় আরেকজন নিহত হয়েছেন বলে ওই অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন। দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের আরেক শহর জাপোরিজিয়ায় আরেক ড্রোন হামলায় ৩২ জন আহত হয়েছেন।
কিইভে বিজ্ঞান একাডেমির ঐতিহাসিক ভবনটিতে হামলার পর সেখান থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল ও কোথাও কোথাও আগুন জ্বলছিল। রয়টার্সে আসা ভিডিওতে দমকলের মই বেয়ে ভবনটির উপর তলার জানালা থেকে কয়েকজনকে নামতে দেখা যায়। যদিও ওই জানালগুলো দিয়ে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া গুদাম, বন্দর স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর তাদের হামলার পরিধি বিস্তৃত করেছে। এর অংশ হিসেবে তারা ডেটা সেন্টার ও টেলিযোগাযোগ স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানছে।
