পাকিস্তানে বিপর্যয়কর বন্যার পর এবার ডেঙ্গুর উপদ্রব

বন্যা কবলিত নানা জায়গায় এখনও উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক সংক্রমণের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 11:43 AM
Updated : 15 Sept 2022, 11:43 AM

পাকিস্তানে সম্প্রতি বিপর্যয়কর বন্যার পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

গত জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্যার কবলে পড়ে পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। এর মধ্যেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক সংক্রমণের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি জানায়, জমে থাকা পানির পাশে এখনও বাস্তুচ্যুত মানুষ বাস করছে। ডেঙ্গু জ্বরে এরই মধ্যে মানুষ মারা যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৮৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছে কমপক্ষে নয়জন। তবে প্রকৃত পরিস্থিতির তুলনায় এ সংখ্যা কম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল গফুর শোরো বিবিসি-কে বলেন, “সিন্ধু প্রদেশের সার্বিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা গোটা প্রদেশে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের ব্যবস্থা করছি। বেশির ভাগ রোগীই ডেঙ্গু আক্রান্ত। এর পরই আছে ম্যালেরিয়া রোগী।”

গোটা প্রদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার মাত্রা একই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গবেষণাগারে নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে বলে জানান গফুর।

করাচির আগা খান হাসপাতালে বহু ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করে আসছেন আবদুল গফুর। তার আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বন্যা শুরুর পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানজুড়ে কয়েক হাজার গ্রাম এখনও পানির নিচে। অসংখ্য মানুষও বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বহু জায়গায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। এতে লোকজন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।

তাছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক রাস্তাই এখনও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য অনেকেই ভ্রাম্যমাণ গাড়ির ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু এ সুযোগ খুবই কমসংখ্যক মানুষই পাচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক