কিইভের দ্বিতীয় প্রধান সেতুতে রাশিয়ার হামলা
গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় শহরের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে বর্ণনা করেছেন কিইভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।
ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভের কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।
শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযোগকারী দ্বিতীয় প্রধান সড়ক ‘নর্দান ব্রিজ’-এ আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী।
বিবিসি লিখেছে, শনিবার সকালে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করে পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে বর্ণনা করেছেন কিইভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।
তিনি বলেন, হামলায় নর্থ ব্রিজের সড়কের ওপরের অংশ এবং ট্রলিবাস চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর সেতুটিতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হামলার পরপরই ক্লিচকো টেলিগ্রামে লেখেন, “নর্দান ব্রিজে আঘাত হানা হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছে।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে শহরের অপর গুরুত্বপূর্ণ ‘সাদার্ন ব্রিজ’-এ দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া।
কিইভের দুই অংশকে সংযোগকারী এই দুটি প্রধান সেতু চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে বৃহস্পতিবারের আগে কখনোই আক্রমণের নিশানা হয়নি, যা কিইভে মস্কোর আক্রমণের এক নতুন ধাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মেয়র ক্লিচকো আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, সেতুগুলোতে ধারাবাহিক হামলা কিইভকে ‘ছিন্নভিন্ন ও অচল’ করে দিচ্ছে।
সাদার্ন ব্রিজে বারবার হামলার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার কিইভ ডিফেন্স কাউন্সিল এক জরুরি বৈঠকে বসে।
বৈঠক শেষে ক্লিচকো বলেন, রাশিয়া এখন রাজধানীর পরিষেবা অবকাঠামো, পণ্য সরবরাহ পথ ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা পুরো শহরকে ‘অত্যন্ত নাটকীয় ও নাজুক পরিস্থিতিতে’ দাঁড় করিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাদার্ন ব্রিজে হামলার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে সাবওয়ের যাত্রীরা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সৃষ্ট ধোঁয়া ও ধুলো ভেন্টিলেশন দিয়ে বগিতে ঢুকে পড়েছিল।
এতে সাময়িকভাবে মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে শুক্রবারের নতুন হামলার পর একই ধরনের যানবাহন চলাচলে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেইনের করা হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যদিও যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।
