০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের ককপিটে হামলা: নিরাপত্তা তদন্তে সৌদি আরব

সৌদি আরব ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের ককপিটে পাইলটদের মারামারির ঘটনায় আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী একটি আলাদা বিমান নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের ককপিটে হামলা: নিরাপত্তা তদন্তে সৌদি আরব

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 07:42 PM

Updated : 08 Oct 2026, 07:42 PM

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজে চালকের কক্ষে (ককপিট) হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত পৃথক তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরব।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উড়োজাহাজ চলাচলের সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থেই সৌদি আরব এই নিরাপত্তা তদন্ত পরিচালনা করছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি যখন সৌদি আকাশসীমায় ছিল, তখন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজটির সহ-চালক কুঠার নিয়ে প্রধান চালকের (ক্যাপ্টেন) ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে বিমানে চরম আতঙ্ক তৈরি হলেও চালক অক্ষত অবস্থায় ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসাবে খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ম অনুযায়ী বিমান নিরাপত্তা সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরবের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কেন্দ্র আলাদা বিমান নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে।

তবে সৌদি তদন্তকারীরা তাদের এই তদন্তের ফল শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে সৌদির ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার, সৌদি সরকার এবং দেশটির বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড’ (এনটিএসবি) এই তদন্তে তাদের এক প্রতিনিধিকে যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার অ্যানেক্স-১৩ প্রবিধান অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি নিবন্ধন ও বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের সদর দপ্তর দুবাইতে হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই নিরাপত্তা তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে।

উড়োজহাজটিতে থাকা ১৭২ জন যাত্রীর প্রায় সবাই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। ইসরায়েলের ‘এয়ারক্রাফট সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি’-র পরিচালক অফের ভাকনিন রয়টার্সকে জানান, তারা সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তদন্তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও এখনও কোনো আমন্ত্রণ পাননি।

তবে তিনি বলেন, উড়োজাহাজের পরিচালনগত বা কারিগরি কোনো সমস্যা না থাকায় ইসরায়েলের এই নিরাপত্তা তদন্তে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নাও পড়তে পারে।

সাধারণত অ্যানেক্স-১৩ অনুযায়ী দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘পর্যবেক্ষক’ মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ফ্লাইটের সব যাত্রী অক্ষত থাকায় কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়।

সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা প্রবিধানের আওতায় রাজনৈতিক বৈরিতা এড়িয়ে কেবল প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তথ্য আদান-প্রদানের নজির রয়েছে।

যেমন ২০২০ সালে চরম উত্তেজনার মুখে ইরানে ইউক্রেনীয় বিমান ভূপাতিত করার পরও মার্কিন ও ইরানি বিমান কর্মকর্তারা ফ্রান্সে বসে যৌথভাবে বিমানের ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করেছিলেন।

২০১৫ সালে ‘জার্মানউইংস’-এর পাইলটের আত্মহত্যার পর প্রসিকিউটরদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েও ফরাসি সংস্থা সিভিল সেফটি তদন্ত অব্যাহত রেখেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় পুলিশ বা প্রসিকিউটররা অগ্রাধিকার পেলেও, পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া কিংবা চালকের কক্ষের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে বড় ধরনের সংস্কার আনতেই এ ধরনের বেসামরিক সেফটি তদন্ত চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।