২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানে ভূমিধসে বন্ধ মহাসড়ক, পর্যটকসহ কয়েক হাজার মানুষ আটকা

বিশাল বিশাল বোল্ডার পথরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে, এগুলো অপসারণের জন্য বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রয়োজন হবে।

পাকিস্তানে ভূমিধসে বন্ধ মহাসড়ক, পর্যটকসহ কয়েক হাজার মানুষ আটকা

গত বছর একই ধরনের আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় মহাসড়কটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফাইল ছবি: ডন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Oct 2026, 11:49 AM

Updated : 23 Oct 2026, 11:49 AM

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের স্কার্দু জেলার রাউন্ডু উপত্যকায় বৃহস্পতিবার সকালে এক ভূমিধসে বালতিস্তান মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকসহ কয়েক হাজার যাত্রী রাস্তার উভয়পাশে আটকা পড়েছেন।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, এই মহাসড়কটি প্রায়ই ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আর এখানে অসংখ্য প্রণাঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ সড়কটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

গিলগিট-বালতিস্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে রাস্তাটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে আর যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভূমিধস অব্যাহত আছে আর বিশাল বিশাল বোল্ডার পথরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরানো সম্ভব হবে না। এগুলো অপসারণের জন্য বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যটক ও জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া এই সড়কে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভূমিধসের এলাকাটি পার হওয়ার চেষ্টা না করার জন্যও তারা সবাইকে সতর্ক করেছে। অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে।

সিন্ধু নদের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যুগলোট-স্কার্দু মহাসড়কের নতুন নাম বালতিস্তান মহাসড়ক। এই মহাসড়কটিকে ওই অঞ্চলের অন্যতম বিপজ্জনক পার্বত্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় স্কার্দু, খারমাং, শিগড় ও গানছে জেলার বাসিন্দারা অন্যান্য অঞ্চলে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটির ওপর নির্ভরশীল। পুনর্নির্মিত এই রাস্তাটি ২০২১ সালে উদ্বোধন করা হয়।

ঘন ঘন ভূমিধস, রাস্তার পাশে সুরক্ষা বেষ্টনী ও সতর্কতামূলক চিহ্নের অভাব, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশাবলির অপ্রতুলতার মতো বিভিন্ন কারণে এই মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।