পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

পাকিস্তানে সাম্প্রতিককালের বিপর্যয়কর বন্যার পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Sept 2022, 01:21 PM
Updated : 16 Sept 2022, 01:21 PM

পাকিস্তানে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাতে দেশের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত বছরের মধ্যে দেশটিতে বন্যার এমন ভয়াল রূপের পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপ’ (ডব্লিউডব্লিউএ) এর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অগাস্টে বৃষ্টিপাত ৭ থেকে ৮ গুণ বেড়েছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ওই অঞ্চলগুলোর গড়ে ৫ দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত আরও প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিন্ধু নদীর অববাহিকাজুড়ে ২ মাসের বর্ষা মৌসুমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ভারি বৃষ্টিপাত হতে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা বৃষ্টিপাতের এই বিশ্লেষণের জন্য ৩১ টি কস্পিউটার মডেলও ব্যবহার করেছেন।

প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের কারণে সিন্ধু নদীর পানি কূল ছাপিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বহু এলাকা। উপরন্তু ভূমিধস এবং শহরাঞ্চলে হড়কা বানে প্লাবিত হয়েছে আরও অনেক এলাকা।

পাকিস্তানের নজিরবিহীন এ বন্যায় দেশের বিশাল অংশ ডুবে প্রায় ১৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তাছাড়া, দেশটির ২২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ বন্যার কবলে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তা, সেতু, যানবাহন ও গবাদিপশু ভেসে গিয়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের আবহে যে কোনও বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা মোটামুটি ১ শতাংশ।

তবে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণের ক্ষেত্রে বছর বছর ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। একারণে দেশটিতে চরম বৃষ্টিপাত এবং ২ মাস সময়ের বৃষ্টির পরিমাণের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কতটা তা মূল্যায়ন করা কঠিন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিবিসি জানায়, এই গ্রীষ্মে ৬০ দিনের সবচেয়ে ভারি বৃষ্টির সময়টিতে বিজ্ঞানীরা সিন্ধু অববাহিকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন। অন্যদিকে, সিন্ধু এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে ৫ দিনের সবচেয়ে ভারি বৃষ্টির সময়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এরপর বিজ্ঞানীরা জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন যে, বিশ্ব উষ্ণায়ন না থাকলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কেমন হতে পারত। কয়েকটি মডেল থেকে এমন আভাসই মিলেছে যে, বৃষ্টিপাত বেশি হওয়া বা বেড়ে যাওয়ার সব ঘটনার ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখতে পারে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক