সুনামির মত বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছে দেরনার সিকিভাগ, মৃত্যু ৫ হাজারে পৌঁছানোর শঙ্কা

ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় দেরনা ও বেনগাজির।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 04:05 AM
Updated : 30 Jan 2024, 04:05 AM

দু’টি বাঁধ ধসে সুনামির মত ধেয়ে আসা বন্যার পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে লিবিয়ার বন্দর শহর দেরনার এক চতুর্থাংশ। পানি নামার পর স্পষ্ট হচ্ছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা। উদ্ধার হচ্ছে হাজারো মানুষের লাশ, তাদের শোয়ানো হচ্ছে গণকবরে।

উপকূলীয় শহর দেরনার অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা অন্তত ২৩০০ জন; এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা স্থানীয় টেলিভিশনে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

নেটো সমর্থিত এক অভ্যুত্থানে একনায়ক মুয়াম্মাম গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ে লিবিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। একপাশে আছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ত্রিপোলিভিত্তিক পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকার। অপরদিকে বেনগাজিভিত্তিক পূর্বাঞ্চলীয় সরকার।

গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রিসের উপকূলে ভূমধ্যসাগরে তৈরি হয়েছিল ক্রান্তীয় ঝড় ‘ড্যানিয়েল’। সেই ঝড়ের প্রভাবে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়, দেখা দেয় বন্যা।

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় আল-বায়দা, আল-মার্জ, তোবরুক, বাতাহর মত শহর। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় দেরনা ও বেনগাজির। সোয়া লাখ বাসিন্দার শহর দেরনার কাছে দুটি বাঁধ ও চারটি সেতু ধসে পড়ে, বন্যায় ডুবে যায় শহরের অধিকাংশ এলাকা।

এই দুর্যোগে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই হয়ত সাগরে ভেসে গেছেন।

রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানান, তিনি সেখানে বিপুল ধ্বংসস্তূপ দেখেছেন। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর নেমে আসা ঢলে ভবনগুলো ভেসে গেছে, গাড়িগুলো একটার উপর আরেকটা উঠে আছে বা উল্টে পড়ে আছে। কাদা ও আবর্জনায় সয়লাব হয়ে গেছে রাস্তাগুলো।

হাসপাতালের বারান্দায় সরি দিয়ে রাখা হয়েছে বহু লাঁশ, আর মৃতদেহ আনা হচ্ছে, লোকজন তাদের মধ্যে পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের খুঁছে ফিরছেন।

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হুকমু আবু শুকেইতা দেরনা পরিদর্শন করে আসার পর ফোনে রয়টার্সকে বলেন, “সব জায়গায় লাশ পড়ে আছে, সাগরে, উপত্যকাগুলোয়, ভবনের নিচে। শহরের ২৫ শতাংশ মানুষ বিলীন হয়ে গেছে, আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছি না। বহু, বহু ভবন ধসে পড়েছে।” 

স্থানীয় আল মাসার টেলিভিশন জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃতের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি বলে জানিয়েছেন। 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)