জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণ শুরুর সময় মার্কিন প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না। চাপ, নিষেধাজ্ঞা বা শক্তি প্রয়োগের মুখেও কখনও মাথা নত করবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে শুরু করার সময়ই বের হয়ে গেছে (ওয়াকআউট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।
বুধবার অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পেজেশকিয়ান তার ভাষণে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের শেষেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান ‘কখনও মাথা নত করবে না’। তবে যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতির পথ উন্মুক্ত রাখবে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নানা নীতি নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করার একপর্যায়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের আসন থেকে কর্মকর্তারা উঠে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
তবে এরপরও ইরানের প্রেসিডেন্ট তার ভাষণ চালিয়ে যান এবং বিশ্বমঞ্চে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার ভাষণে সেই হুমকি অগ্রাহ্য করে বলেন, ট্রাম্পের হুমকি কেবল ইরানের সংকল্পকেই আরও দৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, "গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া বক্তব্য গুণ্ডামির লক্ষণ... ইরানি জনগণ কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। যারা নিজেরা সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেয়, তারাই আমাদের সন্ত্রাসী বলছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে বিশ্বের সন্ত্রাসীদের শীর্ষস্থানীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বর্ণনার প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের নিরপরাধ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রে সজ্জিত দুই দেশের হামলার মুখে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছে।
ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ছবি মঞ্চে তুলে ধরেন। এছাড়া, স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও দেখান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। তার দাবি, অসুস্থ, নিরপরাধ, দরিদ্র ও সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষই এসব নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান এই অধিকার থেকে সরে আসবে না।
ওদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
জাতিসংঘ ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, একটি জলপথ থেকে কোনো কোনো দেশ অবাধে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে, অথচ একই জলপথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজে শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি বয়ে আনবে না।”
