ঋণে ডুবে থাকা ভারতীয়র লটারিতে কোটি রুপি জয়

ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে লটারি বেআইনী হলেও কেরালার মত কয়েকটি রাজ্যে কঠোর নজরদারি এবং নানা নিয়মকানুন মেনে আইনগতভাবে লটারির আয়োজন করা হয়।

নিউজ ডেস্ক
Published : 30 July 2022, 05:57 PM
Updated : 30 July 2022, 05:57 PM

ঋণের দায়ে জর্জরিত ভারতের মোহাম্মদ বাভা দেনা পরিশোধে নিজের বাড়ি বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাকে বাড়ি বিক্রি করতে হয়নি। লটারি জিতে তিনি এখন এক কোটি রুপির মালিক।

যে লটারি জিততে প্রায় এক বছর ধরে তিনি টিকিট কিনছিলেন।

বিবিসি জানায়, গত ২৫ জুলাই এক বন্ধু ফোনে বাভাকে লটারিতে এক কোটি রুপি জেতার সুসংবাদ দেয়।

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালার কাসারগোদ শহরের বাসিন্দা বাভা এখন সেখানে রীতিমত তারকা বনে গেছেন।

ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে লটারি বেআইনী হলেও কেরালার মত কয়েকটি রাজ্যে কঠোর নজরদারি এবং নানা নিয়মকানুন মেনে আইনগতভাবে লটারির আয়োজন করা হয়।

গত কয়েক বছর ধরে দেনার দায়ে ডুবে যাচ্ছিলেন বাভা। তিনি এবং তার পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। প্রতিনিয়ত পাওনাদাররা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

এ অবস্থায় দেনা পরিশোধে পরিবারটি তাদের শেষ সম্বল বসতবাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাভা একজন ক্রেতার সঙ্গে তার বাড়ি বিক্রির বিষয়টিও চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন।

বাড়ি বিক্রি নিশ্চিত করতে এবং বায়না অর্থ নিতে ২৫ জুলাই স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাভার ওই ক্রেতার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।

কিন্তু ঠিক ৩টা ২০ মিনিটে তার বন্ধু গনেশ তাকে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে ওইদিনের লটারির ফলাফল পাঠায়।

বিবিসিকে পাঁচ সন্তানের জনক বাভা বলেন, ‘‘আমার খুব শান্তি লাগছে। আমি কারো কাছে সাহায্য চাইবো এমন মানুষও ছিল না।

‘‘আমাদের খুব আনন্দ হয়েছে। আমরা আমাদের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”

কর কাটার পর ৬৩ লাখ রুপির মত পাবেন বাভা। কবে নাগাদ তিনি লটারি জয়ের অর্থ হাতে পাবেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে পাওনাদারদের তার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে তিনি আর উদ্বিগ্ন হবেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমি লটারি জেতার পর পাওনাদাররা চুপ হয়ে গেছেন। যখন আপনি নিঃস্ব থাকবেন তখন লোকজন তাদের অর্থ ফেরত পেতে চিৎকার করবে। কিন্তু যখন তারা জানতে পারলো আমি লটারি জিতেছি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের পাওনা ফেরত দিতে পারবো তখন তারা শান্ত হয়ে গিয়েছে।”

পেশায় আবাসন ঠিকাদার বাভা গত কয়েক বছর ধরে কাজের অভাবে আর্থিক সংকটে আছেন। কোভিড-১৯ মহামারী তার অবস্থা আরো নাজুক করে দিয়েছে।

তার উপর দুই মেয়ের বিয়ে এবং এক ছেলেকে কাতার পাঠাতে গিয়ে তাকে প্রচুর ঋণ করতে হয়েছে।

সুদ মিলিয়ে তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ রুপি। তিনি আশা করছেন লটারি জেতা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের ঠিকাদারি ব্যবসা আবার চাঙ্গা করতে পারবেন। ঋণও শোধ হবে।

সুন্দর এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক